সোহম কর, কল্যাণী: কল্যাণী শহরের ঋত্বিক সদনে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে সিপিএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির বর্ধিত অধিবেশন। দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের কথায়, ‘ভবিষ্যতের জন্য ফিরে দেখা’। নেতারা যখন অধিবেশনে আগামীর জন্য পরিকল্পনায় ব্যস্ত, বাইরে তখন বিজেপি আর সিপিএমের পতাকা যুদ্ধ জমজমাট! ঋত্বিক সদনের মূল ফটকের সামনেই হয়েছে অধিবেশনের সুসজ্জিত গেট। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সীতারাম ইয়েচুরির ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছ সেই তোরণ। তার ঠিক সামনেই বিজেপির বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তরফে একটি তোরণ করা হয়েছে। একই দিনে ‘দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’ করছে তারা। শহরের সর্বত্র সিপিএমের পতাকার পাশেই বাঁধা হয়েছে বিজেপির পতাকা। রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন মেরুর দুই শিবিরের এই পতাকা-যুদ্ধ নিয়ে এখন জোর চর্চা কল্যাণীর নাগরিক মহলে।
শনিবার ঋত্বিক সদনে লাল পতাকা উত্তোলন করে অধিবেশনের সূচনা করেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি। এদিন অধিবেশনের মাঝে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিল সিপিএম নেতৃত্ব। অধিবেশনের অভ্যর্থনা কমিটির সম্পাদক অলোকেশ দাস বলেন, ‘এই প্রেক্ষাগৃহের অনুমোদন বাতিল করার চেষ্টা হয়েছিল। সারারাত শহরজুড়ে দাপাদাপি করেছে শাসক দলের লোকেরা। আমাদের পতাকার পাশেই পতাকা লাগিয়েছে।’ রাজ্য সম্পাদক সেলিম বলেন, ‘আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। সাফল্যও আছে। গত সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলি কতটা বাস্তবায়িত করা গেল, আন্দোলন, সংগ্রামের মাধ্যমে জনবিচ্ছিন্নতা কতটা কাটানো গেল—এসব নিয়ে আলোচনা চলছে। সূত্রের খবর, এদিনের অধিবেশনে উঠে এসেছে, হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে গরিব মানুষের কাছে পৌঁছানো গিয়েছে। এই অভ্যাস আরও বেশি করে বজায় রাখতে হবে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বিজেপির আমলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার বিষয়ে সরব হন সেলিম। তিনি আরও বলেন, ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এখানে অধিবেশনের জন্য আক্রমণ নেমে এসেছে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা হয়েছে। উদর, হৃদয় ও মস্তিষ্ক তিনটেতেই তালা দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে। এটাই ফ্যাসিজম।’ তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কি বিজেপি-তৃণমূল বাইনারি ভাঙছে? সেলিম বলছেন, ‘এখন তৃণমূল ছবি থেকে সরে গিয়েছে। কিন্তু বিজেপি তাকে অক্সিজেন, রক্ত দিয়ে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে। শুধু নাটক হচ্ছে। ভালো তৃণমূল খুঁজে পাশবালিশ, কোলবালিশ তৈরির চেষ্টা চলছে।’-নিজস্ব চিত্র