সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: ১৯৫১ সাল থেকে ২০১১। এই সময়কালে মালদহ বিধানসভা কেন্দ্র বাম এবং কংগ্রেসের ‘গড়’ বলে পরিচিত ছিল। তখন বিধানসভা নির্বাচন হলে কোনো বার কংগ্রেস জয়লাভ করত, আবার কখনও বামেরা। তবে সেই সব আজ অতীত। ২০১১ সালে তৃণমূলের সঙ্গে জোট করে এবং ২০১৬ বামেদের সঙ্গে জোট করে ওই কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস জয়লাভ করে। ২০২১ সালে বিজেপি জয়লাভ করে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেজন্য ওই বিধানসভা কেন্দ্র দখল করতে ভোট ময়দানে পুরাতন মালদহ শহরের কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি। প্রতীক এঁকে দেওয়াল লিখনে দুই দলই এগিয়ে গিয়েছে। তৃণমূলের তরফে মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়া হচ্ছে। ‘লক্ষ্মী এল ঘরে’ সিনেমা দেখিয়ে তারা প্রচার করছে। তবে ওই কেন্দ্র একদা কংগ্রেস এবং সিপিএমের ‘গড়’ হলেও দেওয়াল লিখনে তারা পিছিয়ে রয়েছে বলে দাবি। এনিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর তরজা শুরু হয়েছে।
প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা মালদহ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ভূপেন্দ্র নাথ হালদার বলেন, এই মুহূর্তে দেওয়াল দখল করা হয়েছে। সেখানে লিখনও হবে। আগামী দিনে প্রার্থী ঘোষণা হলে আমরা ঠিক সময় মতো এগিয়ে যাব। এলাকায় কিছু নির্দল বা অন্য দল দেওয়াল লিখন করেছে। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। কংগ্রেস একটা প্রাচীন দল। এলাকার কেন্দ্র কংগ্রেসের গড়। কিছুদিন আগে শহরে বিরাট বাইক যাত্রা এবং পথসভা হয়। সেখানে ভালো সমর্থন পেয়েছিলাম। অতীতে মানুষ ভুল বুঝেছিল, তারা আমাদের তা জানিয়েছে। গ্রামে গ্রামে বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে মানুষকে দলের আদর্শের কথা বলা হচ্ছে।
সিপিএমের পুরাতন মালদহের এরিয়া কমিটির সম্পাদক সাধন দাস বলেন, দেওয়াল লিখন নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরাও এগিয়ে যাব। এদিকে ‘গড়’ বলতে নারাজ তৃণমূল। তৃণমূলের মালদহ জেলা সহ সভাপতি নবরঞ্জন সিনহা বলেন, তাদের গড় বলতে কিছুই নেই। গড় হলে বিরোধীদের জমানত জব্দ হল কেন? গনিখান চৌধুরী ব্যক্তি হিসেবে এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল। তিনি সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়তেন। কিন্তু কংগ্রেস তাদের সঙ্গে জোট করে মানুষের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে। আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের জন্য অনেক করেছেন। এবার তৃণমূলের জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। নিজস্ব চিত্র