Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোয় নিষিদ্ধ এলইডি ডিসপ্লে বোর্ড, অশান্তি এড়াতে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের

চাইনিজ এলইডি লাইটের ইলেকট্রিক ডিসপ্লে বোর্ড। যা অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপে যা লিখে দেওয়া হয়, তাই ভেসে ওঠে পর্দায়।

পুজোয় নিষিদ্ধ এলইডি ডিসপ্লে বোর্ড, অশান্তি এড়াতে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চাইনিজ এলইডি লাইটের ইলেকট্রিক ডিসপ্লে বোর্ড। যা অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপে যা লিখে দেওয়া হয়, তাই ভেসে ওঠে পর্দায়। ডেকরেটররা অধিকাংশ মণ্ডপে কিংবা আলোকসজ্জার তোরণে উদ্যোক্তাদের নাম এবং বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থার নাম লেখার জন্য এই বোর্ড ব্যবহার করে। এমন একটি লাইটের বোর্ডে ফুটে ওঠা লেখা নিয়ে গত দুর্গাপুজোয় বেলডাঙায় ঘটে বিপত্তি। ওই চাইনিজ এলইডি বোর্ডের অ্যাপের পাসওয়ার্ড হ্যাক করে কুরুচিকর মন্তব্য লিখে দেওয়া হয়েছিল বোর্ডে। তারপর সেটির ভিডিও তুলে কোনও দুষ্কৃতী সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে গিয়ে অশান্তি শুরু হয়। যা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছিল পুলিশকে। 

Advertisement

সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে রেখে এবারের দুর্গাপুজোয় এই ধরনের ইলেকট্রিক ডিসপ্লে বোর্ড নিষিদ্ধ করল পুলিশ। মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত পুজো উদ্যোক্তা ও ডেকরেটর মালিক এবং আলোকসজ্জা সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই চাইনিজ এলইডি ইলেকট্রিক ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। যদি কোনও উদ্যোক্তা তারপরও এই বোর্ড ব্যবহার করে, তাহলে কড়া পদক্ষেপ করবে পুলিশ। 
জানা গিয়েছে, এই সমস্ত বোর্ডের অধিকাংশ জায়গায় পাসওয়ার্ড একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার আটটি ডিজিট। নতুন কেনার পর থেকেই একই পাসওয়ার্ড বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করে থাকেন ডেকরেটর মালিকরা। সেই পাসওয়ার্ড অধিকাংশ যুবকই জানেন। অনেক ডেকরেটর মালিক পুজো উদ্যোক্তাদের মণ্ডপে আলোক সজ্জা তৈরি করে দিয়ে তাঁদের ফোনেই এই অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে দেন। তাঁরাই পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে ক্লাবের নাম দিয়ে ওই অ্যাপের মাধ্যমে ডিসপ্লে বোর্ডে লেখা ফুটিয়ে তোলেন। এভাবেই সহজেই এই পাসওয়ার্ড সকলের কাছে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এই ডিসপ্লে বোর্ড ব্যবহার করছে। তাই কঠোর হচ্ছে পুলিস। 
জেলার পুলিশ সুপার কুমার সানিরাজ বলেন, সমস্ত থানায় পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে বলে দেওয়া হয়েছে, কোথাও এই ডিজিটাল এলইডি বোর্ড ব্যবহার করা যাবে না। বিশেষ করে বেলডাঙা এবং সংলগ্ন এলাকাতে এই ধরনের কোনও বোর্ড যাতে ব্যবহার না হয় সেজন্য আমরা নজরদারি রাখছি। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে মানুষ পুজোর আনন্দে মেতে উঠতে পারে সেজন্য সব রকমের ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। 
ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপাররা সমস্ত থানার আইসি, ওসি, এসডিপিও, ডিএসপিদের নিয়ে বৈঠক করে এই ধরনের ডিসপ্লে বোর্ডের নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকরা ডিএসপি এবং এসডিপিওদের উপস্থিতিতে নিজের নিজের এলাকায় পুজো উদ্যোক্তা, ডেকরেটর এবং আলোকসজ্জা সরবরাহকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।  
জেলা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, বেলডাঙার ওই ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। এই ধরনের লাইট বোর্ডের মাধ্যমে খুব বড় অপরাধ সংগঠিত করা যাবে। সামান্য একটা অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করে নিলেই যে কেউ এই লাইট বোর্ড অপারেট করতে পারছে। খুব সহজলভ্য পাসওয়ার্ড দ্বারা সংরক্ষিত থাকে এই বোর্ডগুলি। তাই সমস্ত ডেকোরেটর এবং আলোকসজ্জা সরবরাহকারীরা যাতে এই বোর্ডের ব্যাপারে সচেতন করা হয়েছে। উৎসব সকলের। সেই উৎসবে কোনও অসাধু ব্যক্তিরা যাতে অসৎ উদ্দেশ্যে এই ধরনের বোর্ড হ্যাক করে সমস্যা তৈরি করতে না পারে, সেই জন্য এই বোর্ড ব্যবহার না করতে বলেছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ