নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ‘শিখা ইন’ হোটেলের লিজ হোল্ডারকে বুধবার মধ্যরাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম আবু জাফর। তিনি জোড়াসাঁকো এলাকার বাসিন্দা। একইসঙ্গে হোটেলের ম্যানেজার সহ দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ধর্মতলা-নিউ মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকা মিলিয়ে ১০টিরও বেশি হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধ করতে নোটিস দিয়েছে পুরসভা। জানা গিয়েছে, ট্রেড লাইসেন্স না থাকা সহ অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগে ‘ক্লোজার’ নোটিস ঝুলিয়েছে প্রশাসন। এদিকে, এদিন আরও দু’টি মৃতদেহের পরিচয় জানা গিয়েছে। তাঁদের নাম এস এম আলিমুজ্জামান (৪৮) ও ঋপতি সরকার (৪১)। তাঁরা দু’জনেই বাংলাদেশি নাগরিক। অন্যদিকে, পুলিশ মর্গে ৯টি মৃতদেহের ময়নাতদন্ত হয়। প্রাথমিক রিপোর্টে ইঙ্গিত, শরীরে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রবেশের ফলে শ্বাসরোধেই মৃত্যু হয়েছে তাঁদের। মৃত সাতজন বাংলাদেশির দেহ হস্তান্তরের জন্য সরকারিভাবে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে লালবাজার। জানা গিয়েছে, মৃতদেহগুলি সড়কপথে বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের পর বৃহস্পতিবার শহরজুড়ে ধড়পাকড় শুরু করেছে পুর-প্রশাসন। শহরের ১৬টি বরোতেই সমীক্ষায় নেমেছে পুরসভা ও পুলিশের যৌথ টিম। সেখানে পুরসভার বিল্ডিং, লাইসেন্স বিভাগ ছাড়াও রয়েছে লালবাজার, কেএমডিএ, সিইএসসি ও দমকলের প্রতিনিধিরা। শহরের বিভিন্ন বিল্ডিংয়ে হোটেল-গেস্ট হাউস, রেস্তরাঁ, পানশালা সহ নানা বাণিজ্যিক কাজকর্ম চলছে ও একইসঙ্গে গৃহস্থও থাকেন, সেই বাড়িগুলি সেফটি অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। ১৫টি প্রশ্নকে সামনে রেখে ‘চেক লিস্ট’ বানিয়ে চলছে তদন্ত। বাড়ির বয়স কত, বিল্ডিং প্ল্যান আছে কি না, থাকলে প্ল্যানের সঙ্গে বাস্তবের কোনো ফারাক আছে কি না, বাড়ির মালিকানা বা লিজ স্ট্যাটাস কী, ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে কি না, থাকলেও অগ্নি নির্বাপক পরিকাঠামো কতটা কার্যকর, ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না, এইসব বিষয়গুলি পুঙ্খাণুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো বিল্ডিংয়ে প্রবেশ ও বাহিরপথ নিয়মমাফিক রয়েছে কি নাসবটাই যৌথ টিমের স্ক্যানারে। পুর কমিশনারের নির্দেশ মতো যেখানে ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া যাবে না বা রিনিউ না করেই ব্যবসা চালানো হচ্ছে, সেখানে বন্ধ করার নোটিস ঝোলানো হচ্ছে।



