বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: ৫০ বছর পর ‘ফ্ল্যাশব্যাক’ করলে আজকের দিনের কিছু ছবি যদি সময়ের দলিল হয়ে ওঠে, তার মধ্যে নিঃসন্দেহে অন্যতম হবে মাথা নিচু করে মোবাইল দেখা। বাস, ট্রেন, বিমান, ওয়েটিং রুম—সর্বত্র এখন এক ছবি। ১০০ জন বসে থাকলে ৭০-৮০ জন ঘাড় নিচু করে মোবাইল দেখছেন। যেন একটা গোটা প্রজন্ম মোবাইলে মগ্ন! শুধু অল্পবয়সিরা নয়, মাঝবয়সি থেকে প্রবীণরা একইভাবে মজেছেন মাথা গুঁজে মোবাইল দেখায়। পাশের মানুষটির সঙ্গে গল্প নয়, পাড়ার মোড়ে আড্ডা নয়, বই পড়া নয়, প্রকৃতির রূপ-রস-গন্ধে ডুবে থাকাও নয়, মানুষের সমস্ত অভিনিবেশ শুষে নিচ্ছে মোবাইল। গাড়ির চালকের হাত স্টিয়ারিংয়ে, ঘাড় কাত করে কানের কাছে ধরা মোবাইল। বাইক, সাইকেলও তাই। এসব তো প্রতিদিনের পথচলতি দৃশ্য! রিউম্যাটোলজিস্টরা বলছেন, অল্প বয়স হোক বা বেশি, এখন ব্যথা-বেদনার অন্যতম কারণ হল ১৫ ডিগ্রির (সহনমাত্রার) বেশি কোণ! সেটা ২০ ডিগ্রি হতে পারে। কখনও কখনও মোবাইলের নেশায় বুঁদ জনতা ঘাড় ঝুঁকিয়ে দিচ্ছে ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত। যাঁরা ঘাড় কাত করে বা ঝুঁকে মোবাইল দেখছেন বা কথা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রেই ১৫ ডিগ্রির বেশি কোণে বেঁকে যাচ্ছে ঘাড়। ফলে অনবরত ঘাড়ে চাপ পড়ছে। সহনমাত্রা পার করে গেলেই শুরু হচ্ছে যন্ত্রণা। আশঙ্কা বাড়ছে সার্ভাইক্যাল স্পন্ডাইলোসিসের।



