নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দিল্লির যন্তরমন্তরে ২৩ দিনের অনশনের পর রাজনৈতিক মানচিত্রে জায়গা করে নিয়েছেন আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। বিজেপি-আরএসএসের রোষের মুখে পড়েছেন এই বাম নেত্রী। মঙ্গলবার কলকাতায় এসে সাংবাদিক সম্মেলনে বললেন, ‘ভোটে জিতে এলে অনেকে নিজেকে রাজা বলে মনে করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা হওয়া খুব দরকার ছিল কারণ, ওঁদের মনে ভয় হওয়াটা প্রয়োজন। শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিবর্তনের পথে এটা শুরুয়াত্। একটা পরীক্ষা একদন পড়ুয়ার ভবিষ্যত্ ঠিক করে দিতে পারে না। তাই জাতীয় শিক্ষানীতি বাতিল করতে হবে। কারণ এর মধ্যেই বেসরকারিকরণ, পরীক্ষার কেন্দ্রীয়করণের বীজ থাকে।’
প্রশ্নফাঁসের বিলের সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, শুধুই তো পেনাল্টি আর জেলের সময় বাড়ানো হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দেন অমিত শাহর বিরুদ্ধেও। তিনি বলেন, ‘অমিত শাহের ইস্তফা চাওয়া হচ্ছে কারণ, কোনো রাষ্ট্র তার নাগরিকদের মাথায় লাঠি মারতে পারে না। পেলেট গান চালাতে পারে না। যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পেলেট গান চলে তাহলে তো অমিত শাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। অবশ্যই ইস্তফা দেওয়া উচিত।’
সাংবাদিক সম্মেলনের পর তিনি রামমোহন লাইব্রেরিতে কনভেনশনে যোগ দেন। সূত্রের খবর, গত সোমবার পুলিশ প্রেক্ষাগৃহে এসে প্রশ্ন করে, কেন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছোটো প্রেক্ষাগৃহে সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্র ও যুব সংগঠন আইসা-আরওয়াইএর আয়োজনে ‘প্রতিস্পর্ধার যন্তরমন্তর—ছাত্র-যুব আন্দোলনের নতুন দিশা’ শীর্ষক আলোচনা সভা নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হয়। নেহা ছাড়া বক্তব্য রাখেন এসএফআইয়ের রাজ্য সভাপতি প্রণয় কার্যী, ডিএসওর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিত্ রায়, অভয়া আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবাশিস হালদার, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ, এসএসসি আন্দোলনের নেতৃত্ব মেহবুব মণ্ডল, আরওয়াইএর রাজ্য সম্পাদক রণজয় সেনগুপ্ত।
হাতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি ও ‘চিত্ত যেথা ভয় শুন্য’ কবিতা নিয়ে নেহা বক্তব্য শুরু করেন নেহা। তিনি বলেন, দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিলিগুড়িতে পড়াশুনা করেছি। ওই সময় বাংলায় ছিলাম বলেই চারু মজুমদার, পাবল নেরুদা, অরুন্ধতী রায়ের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যা আমাকে দক্ষিণপন্থা থেকে দূরে রেখেছিল। তাঁর কথায় উঠে আসে রাজ্যে বন্ধ হয়ে থাকা স্কুল, এসএসসি দুর্নীতির কথা। তিনি বলেন, মানুষ ঐক্যবদ্ধ হলে ৫৬ ইঞ্চিও ঝুঁকে যান। নতুন ভারত গড়ার দায়িত্ব আমাদের কাঁধে রয়েছে। এটাই আমাদের গর্ব। এটা কখনোই আমাদের বোঝা নয়। অন্যান্য নেতৃত্বের কথায়, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা উঠে আসে। নেহার বক্তব্য চলাকালীন হলের বাইরে একদল এসে ‘গো ব্যাক আইসা-এসএফআই’ পোস্টার ছড়িয়ে দিয়ে যায়। হল থেকে নেহাকে দলের কর্মীরা নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে গাড়িতে তুলে দেন। আজ, বুধবার আইএসআইতে আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।