সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: যেন অষ্টম বামফ্রন্ট ফেরার আনন্দ সিপিএম নেতাদের চোখেমুখে। বিজেপি নেতা এলাকায় শান্তি বজায় রাখার আর্তি জানিয়ে হাতজোড় করে ঘুরছেন। আর সিপিএম নেতা-কর্মীরা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। হুমকির সুর শোনা যাচ্ছে তাদের গলায়। বাম আমলে এলাকায় যারা সিপিএমের ত্রাস হিসাবে পরিচিত ছিল, তারাও স্বরূপ ধরেছে। আদি বিজেপি নেতারা বলছেন, এরাই দলের ভাবমূর্তি ক্ষতি করছে। রাজ্য নেতৃত্বের কড়া নির্দেশের পর বিজেপি নেতা-কর্মীরা সংযত রয়েছেন। তাঁরা কেউ অশান্তিতে জড়াচ্ছেন না। এলাকার বাসিন্দাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। আর সিপিএম নেতাদের কেউ কেউ গেরুয়া আবির মেখে এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। বিজেপি’র জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা দু’দিন আগে সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, অশান্তি করা যাবে না। কেউ গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করলে দল কড়া ব্যবস্থা নেবে।
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের ফল বেরনোর পরের দিন মঙ্গলকোটে সিপিএম জমানার এক ত্রাস বাড়ি ফিরেছেন। দামি গাড়ি চড়ে এলাকায় তিনি প্রবেশ করেন। গলায় রজনীগন্ধার মালা পরে তিনি প্রবেশ করেন। চোখেমুখে ছিল যুদ্ধজয় করে ফেরার ইঙ্গিত। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। কেতুগ্রামে পার্টি অফিসে হামলা চালানোর ঘটনাতেও সেই বাম কর্মীদেরই নাম জড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এখন যাদের গেরুয়া আবির মেখে এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগকেই দলের মিটিং মিছিলে দেখা যেত না। তারা বিজেপি করে বলেও এলাকায় কেউ জানত না। হঠাৎ করেই গেরুয়া আবির মেখে তারা বেরিয়ে পড়ে। সিপিএম নেতা নজরুল হক বলেন, আমাদের কেউ হামলার সঙ্গে যুক্ত নয়। আমাদের কর্মীরাই বিভিন্ন সময় আক্রান্ত হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার আধিকারিকরা কড়া নির্দেশ দেওয়ার পর জেলায় অশান্তির ঘটনা কমেছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি বাড়িয়েছে। খোদ জেলাশাসক শ্বেতা আগারওয়ালও নিজে রুটমার্চ করছেন। তিনি বলেন, অশান্তির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যে বা যারা ভাঙচুর বা হামলার ঘটনায় যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, লাগাতার ধরপাকড় চলছে। রাতের দিকেও পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। কেউ যদি ভাবে অপরাধ করার পর সে শেল্টার পাবে সেই ধারণা সম্পুর্ণ ভুল। আমরা প্রতিটি এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছি।
বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা জেলার সমস্ত এলাকায় ঘুরছে। তাদের নাম করে যারা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তৃণমূল জেলা পার্টি অফিসে বিজেপি’র পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেই পতাকাও এদিন বিজেপি নেতারা সরিয়ে দেন। বিজেপি’র যুব নেতা পিন্টু সাম রথতলা সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন।