Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, ফেরত চাই অফিসও, ডাক সালিশির

নেতা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে, ফেরত চাই অফিসও, ডাক সালিশির
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তৃণমূলের শ্রমিক ইউনিয়নের অফিস পদ্মনেতাকে ফেরত দেওয়ার জন্য রবিবার ছুটির দিনে সালিশি সভা ডাকল বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত। নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বিরুলিয়ার ঘটনা। শনিবার বিজেপি পরিচালিত বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান এনিয়ে নন্দীগ্রাম-২ ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি রবিন জানাকে নোটিস দেন। রবিবার বিকেল ৪টায় বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাঘরে এই সালিশি সভা ডাকা হয়েছিল। তবে যুব নেতা রবিন জানা ওই সালিশি সভায় হাজির হননি। তিনি গোটা বিষয়টি বিডিও-র নজরে এনেছেন। ওই ঘটনায় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এক সময় বিরুলিয়া থেকে চণ্ডীপুর পর্যন্ত ১০-১২টি ট্রেকার চলত। টোটোর দাপটে সেই ট্রেকার সংখ্যা কমতে কমতে এখন দু’টিতে ঠেকেছে। তাও ওই দু’টি নিয়মিত চলাচল করে না। বিরুলিয়া ট্রেকার স্ট্যান্ডের উত্তর দিকে ক্যানেলপাড়ে প্রায় ১৫ বছর আগে আইএনটিটিইউ঩সি অনুমোদিত অফিস তৈরি হয়। মূলত ট্রেকার চালক ও খালাসিদের জন্য ওই অফিস তৈরি হয়েছিল। অফিস তৈরির জন্য মূল উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন আইএনটিটিইউসি নেতা সুদীপ মণ্ডল। স্থানীয় ঘোলপুকুরের বাসিন্দা সুদীপ ২০২১ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। তারপরই তিনি আইএনটিটিইউসি-র ওই অফিস ঘরটি দখল করার জন্য চেষ্টা চালান। সেই প্রয়াস ধাক্কা খাওয়ায় শেষমেশ পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হন। বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত শাসক দলের ওই সাংগঠনিক অফিস ঘরের হস্তান্তর নিয়ে সালিশি ডাকে। এই মুহূর্তে ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি রবিন জানা ওই অফিসে মাঝেমধ্যে বসেন। তিনিই দেখভালের দায়িত্বে আছেন। তাই পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাঁকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। যদিও রবিবার বিকেল ৪টায় গ্রাম পঞ্চায়েতের ডাকা ওই সালিশিতে হাজির হননি রবিন জানা। তিনি বলেন, ক্যানাল পাড়ে পূর্ত দপ্তরের জায়গায় ওই অফিসঘরটি অবস্থিত। প্রায় ১৫ বছর আগে সুদীপ মণ্ডল আমাদের শ্রমিক সংগঠনের নেতা থাকাকালীন তাঁর উদ্যোগে তৈরি হয়েছিল। চার বছর আগে তিনি দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। নেতা পার্টি বদল করেছেন। সেজন্য পার্টি অফিস হস্তান্তর হবে কেন? তাছাড়া, রবিবার ছুটির দিনে কেন গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে সালিশি ডাকা হল? আমি গোটা বিষয়টি বিডিওকে জানিয়েছি। বিজেপি পরিচালিত বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মৈত্রী গুড়িয়া দাস বলেন, ওই কার্যালয়ের জমির নথিপত্র সুদীপ মণ্ডলের নামে রয়েছে। তাঁরই উদ্যোগে সেটি নির্মিত হয়েছিল। এই মুহূর্তে তিনি ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তাই সেই কার্যালয় ফেরত পেতে পঞ্চায়েতে আবেদন করেন। আমরা রবিবার একটি সালিশির আয়োজন করেছি। সেই সালিশিতে রবিন জানাকে ডাকা হয়েছে। তিনি উপস্থিত হননি। এরপর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ