সৌরাংশু দেবনাথ , কলকাতা:
সৌরাংশু দেবনাথ , কলকাতা:
সরাসরি জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়া নয়, আগাগোড়া নেগেটিভ থিওরি! রনজিতে কোণঠাসা গুজরাতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ছয় পয়েন্টের জন্য আগ্রাসন তো দূর-অস্ত, সোমবারের ইডেন দেখল সতর্কতার চাদরে মোড়া বাংলাকে। অথচ, দলটার কোচের নাম লক্ষ্মীরতন শুক্লা। প্রথম একাদশে রয়েছেন মহম্মদ সামি, আকাশদীপের মতো পেসার। আর সিএবি’র সভাপতি পদে স্বয়ং লড়াকু সৌরভ গাঙ্গুলি। তারপরও বাংলা যে কেন এত সাবধানী, কে জানে!
এদিন সকালে ১১২ রানের লিড পেয়েছিল অভিমন্যু ঈশ্বরণের দল। তৃতীয় দিনের শেষে সেটাই পৌঁছেছে ২৮২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে সংগ্রহ ১৭০। আরও পজিটিভ থাকলে এদিন পড়ন্তবেলাতেই কয়েক ওভারের জন্যও ব্যাট করতে নামানো যেত গুজরাতকে। বাংলার কোচ লক্ষ্মী অবশ্য জানালেন, ‘পিচে কোনও সাহায্য নেই। তাছাড়া ওদের দশ নম্বর পর্যন্ত ব্যাটার। সেজন্য ঝুঁকি নিতে চাইছি না। দেখেশুনে খেলতে বলা হয়েছিল সবাইকে। তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করাই প্রাথমিক লক্ষ্য।’
মঙ্গলবার শুরুতে তড়িঘড়ি লিডটা অন্তত ৩২০ করাই বাংলার রণকৌশল। কিন্তু বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সামি-আকাশরা পর্যাপ্ত ওভার পাবেন তো? তাই চালিয়ে খেলে এদিনই তিনশো প্লাস টার্গেট ছুড়ে দেওয়া উচিত ছিল বঙ্গ শিবিরের। সুদীপ ঘরামি (৫৪), অনুষ্টুপ মজুমদার (অপরাজিত ৪৪) ছাড়া কেউ ভরসা জোগাতে পারেননি। চোটের জন্য সপ্তাহ তিনেক ছিটকে যাওয়া সুদীপ চ্যাটার্জির ‘ইনজুরি রিপ্লেসমেন্ট’ কাজি সইফি (১) ব্যর্থ। অভিষেক পোড়েল (১), সুমন্ত গুপ্তরা (১১) ফিরলেন জঘন্য শটে। শাহবাজ আমেদের (২০) স্টাম্পড হওয়াতেও দায়সারা মানসিকতার প্রতিফলন।
পিচে বল ঘুরছে। এই আবহে গুজরাতের দ্বিতীয় ইনিংসে ভাঙন ধরাতে তুরুপের তাস হতেই পারেন শাহবাজ। প্রত্যাবর্তনেই যাঁর ৬ উইকেটের দাপটে গুজরাতের প্রথম ইনিংস থেমেছে ১৬৭ রানে। দুরন্ত আউটস্যুইংয়ে এদিন সকালে বিপক্ষের শেষ উইকেটটি নেন সামি। কোনও সন্দেহ নেই, বাংলাকে সরাসরি জিততে হলে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে তাঁকেও। সঙ্গতে থাকবেন আকাশ। ইডেন ছেড়ে বেরনোর সময় তাঁর গলায় ঠিকরে বেরল আত্মবিশ্বাস, ‘ঠিক জিতব।’ কেন যে বঙ্গ ব্যাটিংয়ে এই বিশ্বাসটা ভ্যানিশ রইল!