Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভপুরে কুয়ে নদীর সেতুর বেহাল দশা, সংস্কারের দাবি

লাভপুরে কুয়ে নদীর সেতুর বেহাল দশা, সংস্কারের দাবি
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা শান্তিনিকেতন: লাভপুরের মামুদপুরে কুয়ে নদীর উপর সেতুর বেহাল দশা। জরাজীর্ণ সেতুটি ভেঙে গিয়ে যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা করছেন এলাকার একাধিক গ্রামের মানুষজন। সেতুর বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় ফাটল ধরেছে। কংক্রিট উঠে গিয়ে লোহার রড বেরিয়ে আছে। এলাকার মানুষদের অভিযোগ দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনওরকম সংস্কার করা হয়নি সেতুটি। এই এলাকার মানুষদের কীর্ণাহার সহ বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার প্রধান রাস্তার মধ্যেই পরে এই জরাজীর্ণ সেতুটি। তাই তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আবেদন করছেন । 
Advertisement
লাভপুর ব্লকের জামনা পঞ্চায়েতের মামুদপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে কুয়ে নদী। এই গ্রামে যেতে গেলে নদীর উপরে জরাজীর্ণ ও ভগ্নপ্রায় সেতু পার করতে হয়। যার ফলে চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন এলাকার মানুষজন। শুধুমাত্র মামুদপুর নয় তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী মহেশগ্রাম, কেমপুর, নিমড়ে সহ একাধিক গ্রামে যাওয়া যায়। এইসব এলাকার মানুষদের কীর্ণাহার সহ সমস্ত জায়গায় যাওয়ার জন্যই পার করতে হয় এই ভগ্নপ্রায় সেতুটি। তা না হলে তাদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরপথে জুবুটিয়া ব্যাঙ্ক মোড় বা পীরতলা হয়ে যাতায়াত করতে হয়। এই এলাকার পড়ুয়াদের মামুদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় যাওয়ার পথেও পড়ে সেতুটি। এছাড়াও অন্যান্য সমস্ত বিদ্যালয় ও কলেজের পড়ুয়াদের এই পথেই যাতায়াত করতে হয়। গ্রামের বাসিন্দাদের রোজগারের উদ্দেশ্যে যাতায়াত বা বোলপুর মহকুমা হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে সেতুর উপর দিয়েই যাওয়ায়ই একমাত্র সহজ পথ। দিনের বেলা সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত কোনওভাবে সম্ভব হলেও রাতে অন্ধকারে আরও বড় অসুবিধা হয়। স্থানীয় মানুষজন আশঙ্কা করছেন সেতুটির স্বাস্থ্যের অবস্থা যে পর্যায়ে রয়েছে তাতে বড় ধরনের বিপদ ঘটে যেতে পারে। তাই তারা চাইছেন দ্রুত সংস্কার করা হোক সেতুটি। তবে তাদের অভিযোগ এই বিষয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে বহুবার দরবার করলেও কোনও সুরাহা হয়নি। তারফলে চরম সমস্যার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই সমস্ত গ্রামের মানুষরা।
স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত ঘোষ, ধনঞ্জয় মণ্ডল, অম্বিকা ঘোষ বলেন, এই সেতুটি শেষবার ঠিক কবে সংস্কার হয়েছিল তা গ্রামের কারও মনে নেই। দিনের পর দিন বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে পড়ছে। হয়তো কোনওদিন সম্পূর্ণ সেতুটি জলের তোড়ে ভেসে যাবে। আমাদের অনেকটা রাস্তা ঘুরপথে যাতায়াত করতে হবে। তাই আমরা চাই সমস্যার দ্রুত সমাধান। লাভপুর ব্লকের বিডিও শিশুতোষ প্রামাণিক বলেন, বিষয়টি ঠিকভাবে খতিয়ে দেখে আগামীতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ