Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভজনক হওয়ায় সংকর প্রজাতির কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে লালবাগের চাষিদের

লাভজনক হওয়ায় সংকর প্রজাতির কুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে লালবাগের চাষিদের
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, লালবাগ: গত কয়েক বছরের মধ্যে বিকল্প হিসেবে লালবাগ মহকুমায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সংকর প্রজাতির কুল চাষ। ঝুঁকি কম ও লাভজনক হওয়ায় এই কুল চাষের প্রতি কৃষকদের আকর্ষণ উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। ভারত সুন্দরী, আপেল, এলাচ ও চেরি এই চার প্রকারের সংকর প্রজাতির কূল চাষ লালবাগ মহকুমার মুর্শিদাবাদ, ভগবানগোলা ও লালগোলা থানার বিভিন্ন এলাকায় হচ্ছে। দেখতে সুন্দর এই কুল ইতিমধ্যে অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষিদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চিরাচরিত ধান, পাট, গম ও সব্জি চাষের পাশাপাশি ভাগ্য ফেরাতে নতুন করে কুল চাষ শুরু করছেন চাষিরা। মুর্শিদাবাদ জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গত কয়েক বছরে আপেল, ভারত সুন্দরী প্রভৃতি সংকর প্রজাতির কুল বাজার দখল করেছে। রং ও সাইজের জন্য ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হন। প্রথম বছরে খরচ একটু বেশি হলেও পরবর্তী বছরে খরচ প্রথম বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম হয়। আবহাওয়ার হেরফেরে ফলন কম হলেও ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ঠিকমতো পরিচর্যা করলে একটি গাছ থেকে ১০-১২ বছর ফলন পাওয়া যায়।
Advertisement
উচ্চ ফলনশীল সংকর কুলের কলম ফাল্গুন-চৈত্র মাসে জমিতে লাগানো হয়। ভাদ্র মাসে গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এই সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। লাগাতার দিন কয়েক বৃষ্টি হলে ফুল ঝরে যেতে শুরু করে। ফুল ঝরে যাওয়া আটকাতে ওষুধ স্প্রে করতে হয়। অবশ্য মৌমাছির ক্ষতি হবে এমন ওষুধ দেওয়া যাবে না। পৌষ-মাঘ মাসের মধ্যে গাছ ভরে গোলাপি এবং সবুজ রঙের আপেল কুল ঝুলতে শুরু করে। তিনমাস ধরে ফল দেয়। কুলচাষিরা বলেন, প্রথম বছর এক বিঘা জমিতে ১০-১২ ফুট অন্তর প্রায় ১৫০টি কলম চারা লাগানো হয়। কলম, জলসেচ, কীটনাশক, লেবার সহ মোট খবচ হয় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। তবে পরের বছর থেকে খরচ কমে হয় ১০-১৫ হাজার টাকা। প্রথম বছর একটি গাছ থেকে ২০-২৫ কেজি কুল পাওয়া যায়। পরের বছর থেকে প্রতিটি গাছ থেকে ৭৫-৮০ কেজি ফলন পাওয়া যায়। মুর্শিদাবাদ থানার কুর্মিটোলার বিশ্বনাথ বিশ্বাস গত পাঁচ বছর ধরে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে কুল চাষ করছেন। তিনি বলেন, প্রথম দিকে আমদানি কম থাকায় পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কুলের দাম ২৫-৩০ টাকা পাওয়া যায়। পরে জোগান বেশি হলে ১০-১৫ টাকা কেজিতে নেমে আসে। তা সত্ত্বেও এক বিঘা জমিতে কুল চাষ করে ৩৫-৪০ হাজার লাভ হয়। পণ্ডিতবাগের কুলচাষি মিলন দাস চার বছর ধরে পাঁচ বিঘা জমিতে আপেল কুলের চাষ করছেন। মিলনবাবু বলেন, ফলন শেষ হলে গোড়ার কিছুটা উপর থেকে গাছ কেটে দেওয়া হয়। তখন ওই জমিতে শাকসব্জির চাষ করা হয়। এছাড়া অনাবাদি জমিতেও কুলচাষ হয়। স্বাভাবিকভাবেই অর্থকরী ফসল হিসেবে কুল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।  
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ