সংবাদদাতা, ডোমকল: খুঁটির উপর ঝুলে থাকা কাঁটাওয়ালা কাণ্ডে ধরে রয়েছে বেগুনি রঙের ফল। যার খোসায় রয়েছে আগুনের শিখার মতো আঁশ। ভিতরে কালো বীজে ভরা রসালো শাঁস। মধ্য আমেরিকার বিখ্যাত ‘ড্রাগন ফ্রুট’ এখন ডোমকল মহকুমার বিভিন্ন গ্রামেও চাষ হচ্ছে। বাজারে চাহিদা থাকায় এই বিদেশি ফল চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। কৃষকদের উৎসাহ যোগাচ্ছে উদ্যানপালন দপ্তরও। জেলা উদ্যানপালন দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে চাষিদের ড্রাগন ফল চাষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এটি লাভজনক। বাজারদর ভালোই। চাষিরা ভালোভাবে পরিচর্যা করতে পারলে এক টুকরো জমিতে ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়েই লক্ষাধিক টাকা রোজগার করা যেতে পারে। এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো ছাড়াও থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়ায় ড্রাগন ফলের চাষ হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় ক্যাকটাস প্রজাতির গাছের এই ফল এদেশেও জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক-একটি গাছ সাধারণত দু’তিন মিটার অবধি লম্বা হয়। পাকলে খোসার রঙ কিছুটা বেগুনি হয়। তবে প্রকারভেদে অন্য রঙের ড্রাগন ফলও দেখা যায়। ফলের খোসায় থাকা আঁশকে রূপকথার ড্রাগনের চামড়ার সঙ্গে তুলনা করেই ড্রাগন ফল নামকরণ। এক-একটি ফলের ওজন ১৫০-৫০০ গ্রামও হয়ে থাকে। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ২৫০ টাকার বেশি দামে বিক্রি হয়। লাভজনক হওয়ায় ডোমকল মহকুমার বহু চাষি এই ফল চাষে ঝুঁকেছেন। রানিনগরের আবদুর রহমান দু’বছর ধরে ড্রাগন ফল চাষ করছেন। তিনি বলেন, এই ফল চাষ লাভজনক। কারণ প্রচুর চাহিদা থাকলেও আমাদের দেশে এই ফল তেমন চাষ হয় না।



