Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লোবায় কয়লাখনির জন্য পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিল 

লোবায় কয়লাখনির জন্য পুনর্বাসনের দাবিতে মিছিল 
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, সিউড়ি: বীরভূমের লোবায় কয়লাখনির জন্য ‘বেআইনি’ ভাবে জমি কেনাবেচার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা না করেই জমি কেনাবেচা চলছে। শুক্রবার বিকেল তিনটে নাগাদ ‘লোবা কৃষিজমি রক্ষা কমিটি’-র ব্যানারে এক বিশাল মিছিল বের হয়। প্রায় হাজার তিনেকের বেশি মানুষ সেই মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল বলে দাবি কমিটির। শুক্রবার দুবরাজপুরের লোবা পঞ্চায়েতের লোবা গ্রামের ধর্না মঞ্চ থেকে এই প্রতিবাদ মিছিল বের হয়েছিল। মিছিলটি এলাকার তিন-চারটি গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। লোবা, বাবুপুর, বরারি সহ একাধিক গ্রামের মহিলা ও পুরুষ মিছিলে অংশ নেন বলে জানা গিয়েছে। 
Advertisement
উল্লেখ্য, লোবায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমিতে কয়লাখনি করা হবে বলে দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার খনির জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে টেন্ডার দেয়। কিন্তু মিছিলে অংশগ্রহণকারী জমিদাতাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার জমিদাতাদের জন্য কোনও প্যাকেজ ঘোষণা না করেই প্রকল্পের টেন্ডার করেছে। সেই টেন্ডার নিয়েছে একটি বেসরকারি সংস্থা। কিন্তু এই প্রকল্পে রাজ্যের এনওসি না নিয়েই প্রকল্পের জন্য জমি কেনা শুরু করেছে ওই সংস্থা। ইতিমধ্যেই ওই সংস্থা গ্রামে অফিস খুলে জমি কেনা শুরু করেছে। অভিযোগ, এই জমির পরিবর্তে জমিদাতাদের পুনর্বাসন প্যাকেজ কী দেওয়া হবে সে সম্পর্কে কোনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। ফলে কীভাবে এই প্রকল্প হবে তা নিয়ে জমিদাতারা অন্ধকারে। তাঁদের আরও অভিযোগ, ওই সংস্থা স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে অল্প টাকায় জমি কিনছে। জমিদাতারা চাইছেন শিল্প হোক। কিন্তু দেউচা পাচামির মতো নির্দিষ্ট পুনর্বাসন প্যাকেজ দিয়ে শিল্প হোক। সেই দাবিতেই এদিন লোবায় কৃষিজমি রক্ষা কমিটির উদ্যোগে মিছিল হয়। কমিটির সম্পাদক জয়দীপ মজুমদার, সভাপতি শ্যামল মণ্ডল বলেন, আমরা শিল্পের বিরোধী নই। কিন্তু আমাদের দাবি, জেলায় আরও একটি কয়লা শিল্প দেউচা পাচামিতে যেভাবে কাজ হচ্ছে, সেই ভাবেই আমাদের পুনর্বাসন প্যাকেজ দিয়ে ন্যায্য মূল্যের বিনিময়ে জমি কিনে শিল্প করা হোক। কিন্তু বেসরকারি সংস্থা বেআইনি ভাবে আমাদের অন্ধকারে রেখে দালালদের দিয়ে জমি কিনছে। এরই প্রতিবাদে আজ মিছিল করলাম। আমাদের আন্দোলন শিল্পের পক্ষেই রয়েছে। আমরা চাই রাজ্যের এনওসি নিয়ে জেলাশাসকের মাধ্যমে এই শিল্প হোক।     
সম্পর্কিত সংবাদ