নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোমবার গ্রেপ্তার করার পর মঙ্গলবার ‘ফলতার ত্রাস’ জাহাঙ্গির খানকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ডায়মন্ডহারবার আদালতে তাঁকে পেশ করা হলে কোনো আইনজীবীই তাঁর হয়ে দাঁড়াতে রাজি ননি। বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু এজলাসে ঢোকানোর পর বিচারক আরিফ আহমেদের নির্দেশে তাঁর জন্য লিগ্যাল এইড থেকে একজন আইনজীবীকে দেওয়া হয়। তিনি ধৃত তৃণমূল নেতার জামিনের আবেদন করলেও বিচারক তা মঞ্জুর করেননি। তিনি ধৃতকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার একেবারে কাকভোরে আদালতের লক-আপে ঢুকিয়ে দেওয়া হয় স্বঘোষিত ‘পুষ্পা’-কে। বেলা ২.৩০টার পর তাঁকে এজলাসে নিয়ে যাওয়া হয়। ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি মামলা আদালতে ওঠে এদিন। সরকারি আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস ধৃতের ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের আর্জি জানিয়েছিলেন। সওয়াল-জবাব শুরুর আগে বিচারক জাহাঙ্গিরের পক্ষে কোনো আইনজীবীকে না দেখতে পেয়ে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার উকিল নেই কেন? কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে আপনাকে, জানেন?’ ‘জানি না’ বলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন ধৃত। আইনজীবী লাগবে কি না, জানতে চাওয়া হলে জাহাঙ্গির সম্মতি দেন। এরপরই লিগ্যাল এইড থেকে দেওয়া একজন আইনজীবী দেওয়া হয়। ৭ থেকে ১০ মিনিট ধরে চলে শুনানি। তারপরেই বিচারক ধৃতকে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
এদিন সকাল থেকেই ডায়মন্ডহারবার আদালতের বাইরে আইনজীবীদের জটলা ছিল। বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে জানিয়ে দেন, তাঁরা কেউ এই তৃণমূল নেতার হয়ে কোর্টে লড়াই করবেন না। গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই ভাবলেশহীন হয়ে রয়েছেন জাহাঙ্গির। মুখে এক গাল দাড়ি নিয়ে মাথা নীচু করে আদালতে প্রবেশ করেন তিনি। সারা দিনে দু’- একটি কথা ছাড়া আর কিছু বলতে শোনা যায়নি তাঁকে। ক’দিন আগে তাঁর যে দাপট ছিল, তার ছিটেফোঁটাও টের পাওয়া যায়নি এদিন। আইনজীবী তথা ফলতার বিধায়ক দেবাংশু পান্ডা বলেন, ‘২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় এক ব্যক্তির বাড়িতে লুটপাট ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। এনিয়ে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। সেই মামলার জন্য এদিন জাহাঙ্গিরকে আদালতে পেশ করা হয়। ১৪ দিনের পুলিশ হেপাজতের আবেদন করা হলেও বিচারক পাঁচ দিন মঞ্জুর করেছেন।’