নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আদালত চত্বরে অভিযুক্ত, তার বাবা এবং এক আইনজীবীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির শিলিগুড়ি কোর্টের আইনজীবীদের একাংশের বিরুদ্ধে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: আদালত চত্বরে অভিযুক্ত, তার বাবা এবং এক আইনজীবীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তির শিলিগুড়ি কোর্টের আইনজীবীদের একাংশের বিরুদ্ধে।
এক যুবক বছর দেড়েক আগে শিলিগুড়ি আদালতের এক আইনজীবীকে প্রেমের জালে ফাঁসান বলে অভিযোগ। অভিযুক্ত নিজেকে সেনা অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এমনকী ওই আইনজীবীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্কও করেন বলে অভিযোগ। নিজেদের ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও করে রেখেছিলেন ওই যুবক। মহিলা আইনজীবী জানতে পারেন আসলে ওই যুবক সেনাবাহিনীর অফিসার নয়। তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ নিয়ে আইনজীবী সরব হতেই ওই যুবক ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ভাইরাল করে দেয়।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রধাননগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই মহিলা আইনজীবী। পরবর্তীতে অভিযোগ সাইবার ক্রাইম থানায় যায়। অভিযুক্ত আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন নেয়। আদালত নিয়মিত হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি আদালতে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন নিয়ে আসেন ওই যুবক। তাঁর বিরুদ্ধে আইনজীবীদের মধ্যে একটা ক্ষোভ ছিলই। এদিন আদালতে ঢোকার পর থেকেই সেই ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ, ওই যুবক ওই মহিলা আইনজীবী এবং অন্যদের সঙ্গে এদিন অভব্য আচরণ করেন। এরপরই আইনজীবীদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ে ওই যুবকের উপর। অভিযোগ, একদল আইনজীবী আদালত চত্বরেই ওই যুবক, তাঁর বাবা এবং তাঁর আইনজীবীকে বেধড়ক মারধর করেন। তাতে যোগ দেয় আদালত চত্বরে উপস্থিত কয়েকজন সাধারণ মানুষও।
পরবর্তীতে শিলিগুড়ি থানার পুলিস এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্তকে শিলিগুড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়। শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমাদের কাছে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।
এ প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি আদালতের প্রবীণ আইনজীবী অত্রীদেব শর্মা বলেন, একবছর ধরে অভিযুক্ত আমাদের সহকর্মীকে মানসিক এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করছিল। এতে সহকর্মী ভেঙে পড়েছেন। অভিযুক্ত আমাদের ও অন্য মহিলা আইনজীবীদের ওপর চড়াও হন। তাতেই কয়েকজন প্রতিরোধ করেছেন। এদিন রাতে মহিলা আইনজীবী শিলিগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ করে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত সহ কয়েকজন আদালত থেকে বেরিয়ে তাঁকে ধাক্কা মারে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। শিলিগুড়ি বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক অলোক ধারা বলেন, দীর্ঘ দিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে। যদিও তা কাম্য ছিল না। তবে কোনও আইনজীবীকে মারধর করা হয়নি।