নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রতিষ্ঠিত এক আইনজীবীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের অভিজাত আবাসনের পাঁচতলার ব্যালকনি থেকে পড়ে মত্যু হয়েছে কৌস্তভ চন্দ্র দাস (৫৩) নামে ওই আইনজীবীর। তিনি ব্যলকনিতে বসে থাকার সময় অসাবধানতায় নীচে পড়ে গিয়েছেন, নাকি এর পিছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য—পুলিস তা খতিয়ে দেখছে। শনিবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে। আবাসন চত্বর থেকে কৌস্তভবাবুকে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে শিশুমঙ্গল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে অন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। সেখানে গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, কৌস্তভবাবু হাইকোর্টে প্র্যাকটিস করতেন। এই আবাসনে তিনি সপরিবারে রয়েছেন দীর্ঘদিন। শনিবার বিকেলে তিনি পাঁচতলায় নিজের ফ্ল্যাটে ছিলেন। বিকেল ৪টে নাগাদ ভারী কিছু পড়ার শব্দ শুনে আবাসনের গাড়ির চালকরা ছুটে আসেন। এক চালকই তড়িঘড়ি আইনজীবীর পরিবারকে বিষয়টি জানান। আবাসনের অন্য বাসিন্দারাও চলে আসেন। আসে বালিগঞ্জ থানার পুলিসও। দ্রুত কৌস্তভবাবুকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিস।
প্রাথমিক তদন্তে তারা জেনেছে, কিছুদিন আগে স্টেন্ট বসলেও বর্তমানে ওই আইনজীবী সুস্থই ছিলেন। পারিবারিক অশান্তি বা মনোমালিন্যের কোনও খবর নেই। পেশাগত কারণে কারও সঙ্গে কোনও বিবাদ বা সংঘর্ষের কথাও জানা যায়নি। পুলিস আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে, আইনজীবী হিসেবে তাঁর যষেষ্ট পসার ছিল। ঘটনাস্থল থেকে তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিস। প্রাথমিকভাবে তারা মনে করছে, খোলা ব্যালকনিতে বসে থাকার সময় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি পড়ে গিয়ে থাকতে পারেন। কারণ, কেউ আত্মঘাতী হলে সাধারণত যে কোণে ও যত দূরে দেহ পড়ে থাকার কথা, এক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেনি।