সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: আইনজীবীর চেম্বার থেকে উদ্ধার হল এক ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ। সোনিয়া হালদার (২১) নামে ওই পড়ুয়া এবার একটি বেসরকারি আইন কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে তাঁর ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। বুধবার সন্ধ্যায় সোনিয়ার দেহ উদ্ধার হয় শেখ মানোয়ার আলম নামে ওই আইনজীবীর চেম্বার থেকে। তাঁর কাছে ল’ নিয়ে পড়াশোনার চর্চা করতে যেতেন ওই ছাত্রী। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। কাকদ্বীপ থানার প্রতাপাদিত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াপাড়া এলাকার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কাকদ্বীপের গান্ধীনগরে সোনিয়ার বাড়ি থেকে পুলিশ একটি চিঠি পেয়েছে। সেই চিঠির বয়ান অনুযায়ী শেখ মানোয়ারের সঙ্গে সোনিয়ার প্রেমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে পুলিশ জেনেছে। পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন ওই ছাত্রী। যদিও মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই জানা যাবে। এদিকে, মৃতের পরিবারের তরফে কাকদ্বীপ থানায় ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মেয়েকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পলাতক আইনজীবী শেখ মানোয়ার।
মৃতার পরিবার সূত্রে খবর, উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর সোনিয়া ল’ নিয়ে পড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। কলেজে ভর্তির আগে থেকে তার প্রস্তুতির জন্য চলতি বছরের শুরু থেকে শেখ মানোয়ারের কাছে যেতেন তিনি। বুধবার সকালেও ওই আইনজীবীর চেম্বারে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। বিকেলে হঠাৎ করেই তাঁর পরিবারের কাছে খবর যায় যে, শেখ মানোয়ারের চেম্বারে সোনিয়াকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া গিয়েছে। এরপরই তাঁর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে যান। খবর দেওয়া হয় কাকদ্বীপ থানাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
সোনিয়ার দাদা টুবাই হালদার বলেন, গত সোমবার ডায়মন্ডহারবারের রাজারহাটের কাছে ওই কলেজে গিয়ে বোনকে ভর্তি করে দিয়েছিলেন বাবা। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। ওখানে থাকার জন্য ঘরও দেখা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটল। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে যে রহস্য আছে, সেটার ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর কথায়। দাদার দাবি, চেম্বারের বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরার কোনও ফুটেজ পাওয়া যায়নি। ক্যামেরার মুখও অন্যদিকে ঘোরানো ছিল। বোনের মোবাইল থাকলেও তাতে সিম কার্ড ছিল না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এদিকে, এই নিয়ে সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, যে ঘর থেকে মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেটিকে সিল করে রাখা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।