লিভ ইন পার্টনারকে খুন আইনের ছাত্রীর? গড়িয়ার ফ্ল্যাটে মদের আসরে ঝামেলা, মেয়ের সঙ্গে ধৃত মা
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মদ্যপানের আসরে বাদানুবাদ। ক্রমে তা চরম পর্যায়ে পৌঁছলে প্রেমিককে কুপিয়ে নৃশংস খুন। অভিযুক্ত আইনের ছাত্রী। নাম সঞ্চালিকা বসু। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে নরেন্দ্রপুর থানার গড়িয়ার ফরতাবাদ এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সার্থক সরকার (২৫)। তাঁর বাড়ি বারাসতে। এই খুনের ঘটনায় প্রেমিকা ও তাঁর মা মৌমিতা বসুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Advertisement

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বছর দুয়েক আগে সঞ্চালিকার মা এই ফ্ল্যাটটি ভাড়ায় নিয়েছিলেন। তিনি বিউটি পার্লারে বিভিন্ন কসমেটিকস প্রোডাক্ট বিক্রি করেন। ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন তাঁর মা-বাবাও। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার সার্থকের সঙ্গে বছর খানেক আগে সঞ্চালিকার আলাপ হয় এক বন্ধুর মাধ্যমে। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠার পর এই ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াত শুরু হয় সার্থকের। মাঝে মাঝে কিছুদিন থাকতেনও। শনিবার রাতে ফ্ল্যাটেই মদ্যপানের আসর বসে। ছিলেন সার্থক, সঞ্চালিকা ও মৌমিতাদেবী। সেসময়ই সার্থক এবং সঞ্চালিকার মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। কোনোক্রমে তা থামান মৌমিতাদেবী। কিন্তু গভীর রাতে ফের চেঁচামেচি শুরু হয়। পাশের ফ্ল্যাট থেকে লোকজন ছুটে আসেন। তাঁরা দেখেন, বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন সার্থক। মৌমিতাদেবীর গলায় আঁচড়ের দাগ। তড়িঘড়ি ওই যুবককে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর দেওয়া হয় নরেন্দ্রপুর থানায়। ফ্ল্যাটে এসে মা ও মেয়েকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মৌমিতাদেবীর প্রতিবেশী সায়ন পাল বলেন, ‘রাত দেড়টা থেকে দুটোর মধ্যে এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা ঘরে গিয়ে দেখি, এক যুবক অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছে।’ মৃতের বাবা সুজয় সরকার বলেন, ‘রাতে সঞ্চালিকা আমার মেয়েকে ফোন করে খবর দেয়। তখন ওকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। পরে জানতে পারি, ছেলে নেই। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।’
শনিবার রাতে কী এমন ঘটনা ঘটল, যার জন্য এই পরিণতি? প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মা ও মেয়ে পুলিশকে জানিয়েছে, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে দুর্ঘটনাবশত সার্থক চশমার উপর পড়ে যায়। সেই কাচ তাঁর শরীরে গেঁথে যায়। তার জেরেই মৃত্যু। যদিও এই দাবি বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না তদন্তকারীদের। কারণ আঘাতের চিহ্ন দেখে খুন বলেই মনে হচ্ছে তাঁদের। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের শরীরের ডান দিকে কলার বোনের নীচের অংশে ধারালো কিছু দিয়ে কোপানোর আঘাত রয়েছে। এই ঘটনায় তৃতীয় কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা নিয়েও চলছে খোঁজখবর। বারুইপুর পুলিশ জেলার এক আধিকারিক বলেন, কীভাবে এই ঘটনা, তা জানতে মা ও মেয়েকে জেরা চলছে।