Bartaman Logo
১০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আইন প্রয়োগ বিপজ্জনক: অধীর

অধীর চৌধুরী বারুইপুরে আইন প্রয়োগে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা। বিস্তারিত পড়ুন।

সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে আইন প্রয়োগ বিপজ্জনক: অধীর
  • ১০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পুলিশ প্রশাসনের উপর আস্থা হারিয়েই মানুষ আইন নিজের হাতে নিয়েছে। বারুইপুর ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি  বলেন, ‘সাধারণ মানুষের আইন হাতে তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার নেই, তা আমি স্বীকার করছি। কিন্তু বারুইপুরকাণ্ডে গ্রামবাসীরা যেভাবে এক অভিযুক্তকে পিটিয়ে মেরেছে, তা বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা আক্রোশেরই বহিঃপ্রকাশ।’একইসঙ্গে তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, ‘এই ঘটনার পর পুলিশ যেভাবে পাল্টা আক্রমণ করছে নিরীহ গ্রামবাসীদের উপর, তা কখনওই সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ ঘটনাচক্রে ওই জায়গাটি সম্পূর্ণ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। আইন যদি সাম্প্রদায়িক রাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে তা খুবই বিপজ্জনক।’

Advertisement

প্রশাসনকে সতর্ক করে অধীরবাবু বলেন, ‘বারুইপুর ও তার আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিগত কয়েক বছরে মাদক কারবার ও নারী পাচারের রমরমা বেড়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার জন্যই এই ব্যবসা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তাই এই ঘটনার সঙ্গে মাদক পাচার, নারী পাচার বা কোনো বড় মাথার যোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’
শুধু কড়া আইন বা এনকাউন্টার দিয়ে এই ধরনের অপরাধ বন্ধ যাবে না বলেও মত প্রকাশ করেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। উদাহরণ হিসেবে তিনি গোটা দেশের পরিসংখ্যান টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘ভারতে যত রেড লাইট এলাকা আছে, তার বেশিরভাগের অধিবাসী বাংলার মা-বোনেরা। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্র, রাজস্থান, গুজরাতে কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও এনআরসিবি-র রিপোর্ট বলছে রাজস্থানে মহিলাদের উপর অত্যাচার সবচেয়ে বেশি।’ অধীরের কথায়, প্রশাসনিক কড়াকড়ির পাশাপাশি সামাজিকভাবে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি। তা না হলে কোনোভাবেই ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো কাপুরুষোচিত অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। 
অধীরের এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সম্পাদক শাখারভ সরকার বলেন, ‘বারুইপুরে যেভাবে রেললাইন উপড়ে ফেলার চেষ্টা বা থানা ভাঙচুর করা হয়েছে তাতে এরাজ্যে এনআরসি বা সিএএ নিয়ে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিই মনে করিয়ে দিয়েছে‌। এই ধরনের অপচেষ্টা কঠোরভাবেই বন্ধ করা দরকার। কিছু লোকজন বিষয়টিতে এখন একটি সাম্প্রদায়িক রং লাগানোর চেষ্টা করছেন। তাতে কোনো লাভ হবে না। ধর্ষকদের রেয়াত করা হবে না।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ