সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: মন্দিরের বাৎসরিক পুজোর রাশ কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়েই গোলমালের সূত্রপাত। সেই দ্বন্দ্বের পরিণতি যে এমন হবে, দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেনি তারকেশ্বরের তেঘরি কালীমন্দিরের সেবায়েত হিসেবে কাজ করে আসা হালদারদের ১২টি পরিবার। গত এক সপ্তাহ ধরে এই পরিবারগুলি কার্যত একঘরে। অভিযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালীরা দুধওয়ালাকে বলে দিয়েছে, ওই পরিবারগুলিতে দুধ দেওয়া যাবে না। গৃহশিক্ষকদের বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে যেন কেউ পড়াতে না যায়। বাধা দেওয়া হচ্ছে ১২টি পরিবারের চাষাবাদেও। অর্থাৎ সবরকমভাবে সামাজিক বয়কটের শিকার পরিবারগুলি। এই মর্মে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে হালদার পরিবারের তরফে। একবিংশ শতকে দাঁড়িয়েও এভাবে ধোপা-নাপিত বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যযুগীয় ফতোয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তারকেশ্বরজুড়ে।
তেঘরি রক্ষাকালী মন্দিরের বাৎসরিক পুজা ছিল ৩১ মে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে সেবায়েত পরিবার ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে গ্রামবাসীদের একাংশের মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশে ৩১মে-ই পুজো করার কথা ছিল সেবায়েতদের। কিন্তু তাঁদের বিরোধী গোষ্ঠীর হুমকির মুখে পুজো বন্ধ রাখতে বাধ্য হন হালদাররা। এরপর ১৪ জুন প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে গ্রামবাসীদের একাংশ পুজো করে। ফলে এই পুজো নিয়ে দীর্ঘদিনের রীতির বদল ঘটে যায়। এদিকে, মামলায় হাজিরা না দেওয়া, হাইকোর্টের নির্দেশ না মেনে পুজোয় অসহযোগিতা করা সহ একাধিক অভিযোগে পুলিস ২২ জুন গ্রেপ্তার করে এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান স্বরূপ ঘোষকে। এরপর প্রভাবশালীদের যাবতীয় আক্রোশ গিয়ে পড়ে হালদারদের ১২টি পরিবারের উপর। তবে নির্দিষ্টভাবে কার বা কাদের নেতৃত্বে এই জোরজুলুম, তা নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে এলাকাবাসী। এই অবস্থায় পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছে পরিবারগুলি। হিমাদ্রি হালদার নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। আশা করি, প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।’ এ বিষয়ে হুগলি জেলা পুলিসের (গ্রামীণ) এসপি (সদর) অগ্নিশ্বর চৌধুরী বলেন, ‘অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তারকেশ্বর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রদীপ সিংহ রায় বলেন, ‘এমনটা হয়ে থাকলে অবশ্যই নিন্দাজনক।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘পুজোয় মন্দিরে প্রণামী হিসেবে জমা পড়ত অনেক অর্থ ও সোনা-রুপোর অলঙ্কার। সেই জন্যই আজ পুজো নিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হল।’