সংবাদদাতা, লালবাগ: দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান। খুব শীঘ্রই লালবাগ সদরঘাটে লঞ্চ পরিষেবা চালু হতে চলেছে। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ঝাড়খণ্ডের একটি সংস্থাকে ঘাট পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার থেকে ওই সংস্থা ভাগীরথীর দুই পাড়ের মধ্যে লঞ্চ পরিষেবার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। লঞ্চ পরিষেবা চালু হলে দেড় বছর ধরে দুই পাড়ের মধ্যে বন্ধ হয়ে থাকা যানবাহন পারাপার আবার শুরু হবে। স্বাভাবিকভাবেই এই খবরে খুশির হাওয়া জেলাবাসীর মধ্যে। লালবাগ মহকুমা শাসক বনমালী রায় বলেন, লালবাগের দুই পাড়ের সদরঘাটের মধ্যে লঞ্চ পরিষেবা চালু হতে চলেছে। এই মুহূর্তে ঘাট পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা দুই পাড়ে লঞ্চ পরিষেবা সংক্রান্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে। একটি বড় লঞ্চ এসেছে। ওই লঞ্চে একাধিক ছোট গাড়ির সঙ্গে মানুষও যাতাযাত করতে পারবেন।
লালবাগের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী। ভাগীরথীর পূর্বপাড়ে রয়েছে পর্যটন শহর লালবাগ। এটি লালবাগ মহকুমার সদর শহরও বটে। পশ্চিমপাড়ে রয়েছে ডাহাপাড়া ধাম, সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী, খোশবাগ সহ একাধিক দর্শনীয় স্থান। পূর্বপাড় থেকে খুব সহজেই সদরঘাট হয়ে পৌঁছে যাওয়া যায়। একইভাবে পশ্চিমপাড় থেকে পূর্বপাড়ে যাওয়া যায়। নৌকায় দুই পাড়ের মধ্যে মানুষের পাশাপাশি টোটো, ভ্যান, লছিমন ও ছোটগাড়ি পারাপার হতো। একাধিকবার চারচাকা গাড়ি নৌকায় ওঠা বা নামার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে গিয়ে প্রাণহানি ঘটেছে। দেড় বছর আগে একটি চারচাকা গাড়ি পশ্চিমপাড়ে যাওয়ার জন্য নৌকায় উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনায় এক দম্পতির মৃত্যু হয়। ওইদিনের মর্মান্তিক ঘটনার পর লালবাগ সদরঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ ছিল। লঞ্চ পরিষেবা চালু হলে আবার যানবাহন পারাপার শুরু হবে। সেক্ষেত্রে জেলাবাসী থেকে পর্যটকদের বহরমপুর হয়ে ঘুরে পলশন্ডায় পৌঁছতে হবে না। সদরঘাট হয়ে সহজেই পলশন্ডায় যাওয়া যাবে। প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরত্ব কমবে এবং সেই সঙ্গে সময়ের সাশ্রয় হবে। মুর্শিদাবাদ হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, নৌকায় গাড়ি ওঠানামার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ছিল। লঞ্চের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকিটা নেই। সদরঘাট। -নিজস্ব চিত্র