‘মনে করো আমি নেই...।’
‘মনে করো আমি নেই...।’
তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছিল বাঙালি। ভারতীয়রা। সংগীত জগতের মায়া কাটিয়ে চলে গেলেন শিল্পী সুমন কল্যাণপুর। রবিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।
কর্ণাটকের সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে সুমন। কর্মসূত্রে পরিবার থাকত পূর্ববঙ্গে ঢাকায়। সেখানেই জন্ম ১৯৩৭ সালে। পরে চলে আসেন মুম্বইয়ে। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়ো। বাংলা, হিন্দি, তামিল সহ একাধিক ভাষায় ছোটো থেকেই সড়গড়। যা সাহায্য করেছিল ভবিষ্যতের সংগীত জীবনে। পড়াশোনা ও গানের তালিম মুম্বইতেই। কেবল গানই নয়, তাঁর আঁকার হাতও ছিল অসাধারণ। ছোটোবেলায় নুর জাহানের গান ছিল তাঁর প্রিয়। তিনিই সুমনের ছিলেন অনুপ্রেরণা। বিভিন্ন জায়গায় প্রোগ্রাম করতে শুরু করেন কিশোরীবেলা থেকেই। একদিন নজরে পড়লেন প্রখ্যাত মারাঠি সংগীত পরিচালক কেশব রাও ভোলের। তাঁর কাছে তালিম নিতে শুরু করেন সুমন। শাস্ত্রীয় সংগীতের থেকে আধুনিক গানই যে সুমনের কণ্ঠে ভালো ফুটবে, তা বুঝতে দেরি করেননি কেশব রাও। প্রথম প্লেব্যাক গাইলেন হিন্দি ছবি ‘মঙ্গু’তে। সে বছরই প্লে ব্যাকে হাতেখড়ি তালাত মামুদের। সুমন তালাত- জুটি উপহার দিতে শুরু করলেন একের পর এক হিট গান। ‘বাত এক রাতকি’, ‘দিল এক মন্দির’, ‘মেরে মেহবুব না যা’— সুমনের হিট গানের সংখ্যা অগণিত। শংকর জয়কিষাণ, শচীন দেব বর্মন, নৌশাদ, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়— নামী সংগীত পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন দীর্ঘ কেরিয়ারে। বিয়ে হয় মুম্বইয়ের নামী ব্যবসায়ী রামানন্দ কল্যাণপুরের সঙ্গে। সুমন হেমাদি থেকে হলেন সুমন কল্যাণপুর। সেই নামেই বিখ্যাত হন। কেবল হিন্দি নয়, ‘আমার স্বপ্ন দেখা দুটি নয়ন’, ‘কাঁদে কেন মন আজ’, ‘আকাশ অজানা তবু’... গেয়েছেন অসংখ্য বাংলা গানও। তবে সুযোগ পাননি সেভাবে। লতার সঙ্গে তাঁর কণ্ঠের অদ্ভূত মিলের কারণে লতার পরিবর্ত হিসাবেই তাঁকে দেখেছে ইন্ডাস্ট্রি। এক সময় রেডিয়োতে তাঁর গান বাজলে শ্রোতারা ভাবতেন লতার গান। সে কারণে গানের রেকর্ডে অনেক সময় নাম থাকত না সুমনের। রয়্যালিটি ইস্যু বিবাদে লতা ও রফির যুগলবন্দিতে যখন ছেদ পড়ে, তখন রফির সঙ্গে গাইতেন সুমন। ‘আজকাল তেরে মেরে পেয়ারকে চর্চে’ এই জুটির অন্যতম জনপ্রিয় গান। ঘটনাচক্রে, লতার বোন আশার প্রয়াণের দু’মাস পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সুমন।