Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গভীর রাতে বোমাবাজি-ভাঙচুর, আতঙ্ক লিলুয়ায়, অধরা অভিযুক্তরা

লিলুয়ার চকপাড়া এলাকায় ফের দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। রবিবার গভীর রাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।

গভীর রাতে বোমাবাজি-ভাঙচুর, আতঙ্ক লিলুয়ায়, অধরা অভিযুক্তরা
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: লিলুয়ার চকপাড়া এলাকায় ফের দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব। রবিবার গভীর রাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বোমাবাজি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। আচমকা বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন বাসিন্দারা। যদিও এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।

Advertisement

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা প্রথমে এলাকায় ঢুকে রাস্তার আলো নিভিয়ে দেয়। চার থেকে পাঁচটি বোমা ছোড়ে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তেই একাধিক দোকান, বাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী দেবাঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘তিন যুবক বাইকে চেপে এলাকায় ঢুকে চারটি বোমা ফেলে চম্পট দেয়। কিছুক্ষণ পর আরও কয়েকজন এসে দোকানপাট, বাড়ি ও গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে।’ আরেক বাসিন্দা সুমিত্রা দাসের কথায়, ‘প্রায় ঘণ্টা দেড়েক ধরে তাণ্ডব চলে। পরিবার নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে রয়েছি। সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হতেই ভয় করছে।’ ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো শত্রুতার কারণে দুই দুষ্কৃতী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ চলে আসছে। মূলত এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষ।
খবর পেয়ে রাতেই লিলুয়া থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। নতুন করে যাতে অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ। গোটা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার বেশ কয়েকটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দুষ্কৃতীদের ছবি। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হাওড়া সিটি পুলিশের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘বোমাবাজির কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল থেকে সুতলি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’ 
এর আগে গত ১২ অক্টোবর গণেশপুজো চলাকালীন উত্তপ্ত হয়েছিল দক্ষিণ চকপাড়া এলাকা। ক্লাবে ঢুকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় দুষ্কৃতীরা। মারধর করা হয়েছিল কয়েকজন ক্লাব সদস্যকে। প্রতিবাদ করতে গিয়ে মার খেতে হয় স্থানীয় মহিলাদের। বিষয়টি নিয়ে ডোমজুড়ের বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ বলেন, ‘এলাকায় দুষ্কৃতী তাণ্ডব বরদাস্ত করা হবে না। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে যাতে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে ব্যাপারে পুলিশকে বলেছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ