সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সেপ্টেম্বরেই চা শ্রমিকদের এ বছরের দুর্গাপুজোর বোনাস বৈঠক হবে। কিন্তু, চলতি বছরের বোনাস বৈঠক শুরুর আগেই গত বছরের বকেয়া পুজো বোনাস নিয়ে উত্তরের চা বাগানে অশান্তির মেঘ জমতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গে ৩০২টি বাগান। চা শিল্প মহল সূত্রে খবর, এর মধ্যে ৫৫টি বাগানের শ্রমিকরা গত বছরের পুজো বোনাসের পুরো অর্থ এখনও পাননি। বকেয়া পুজো বোনাসের দাবি নিয়ে শুক্রবার মাদারিহাটের হান্টাপাড়া, শনিবার জয় বীরপাড়া ও ডিমডিমা চা বাগানের শ্রমিকরা বাগানে গেট মিটিং করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, চলতি বছরের পুজো বোনাসের বৈঠকের আগে গত বছরের বকেয়া পুজো বোনাসের অর্থ মেটাতে হবে বাগান কর্তৃপক্ষকে।
শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, শ্রমিকদের পুজো বোনাস বকেয়া রাখা অন্যায়। শ্রমিকদের গত বছরের বকেয়া বোনাসের অর্থ দ্রুত মেটাতে হবে সংশ্লিষ্ট বাগানকে। আর তা না হলে রাজ্য সরকার বোনাস বকেয়া রাখা মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। গত বছর তৃণমূল সরকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পথে না গিয়ে একতরফাভাবে চা শ্রমিকদের পুজো বোনাস ২০ শতাংশ ঘোষণা করে দিয়েছিল। কিন্তু, সব বাগানের পক্ষে ২০ শতাংশ বোনাস দেওয়ার সাধ্য ছিল না।
উত্তরবঙ্গে বর্তমানে ৭৫টি বাগান আর্থিকভাবে ধুঁকছে। সেই কারণেই অন্তত ৫৫টি বাগানের শ্রমিকরা এখনও গত বছরের পুজো বোনাসের পুরো অর্থ হাতে পাননি। ২০ শতাংশ পুজো বোনাসের বদলে হান্টাপাড়া, জয় বীরপাড়া ও ডিমডিমা বাগানের শ্রমিকরা ১০ শতাংশ বোনাস পেয়েছিলেন। বাকি ১০ শতাংশ বোনাস এখনও মেলেনি তাঁদের।
সিটুর আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শংকর দাস বলেন, পুজো বোনাসের বকেয়া অর্থ না দেওয়া আইনত অপরাধ। রাজ্যের নতুন সরকার বলেছে বকেয়া মজুরি, পিএফ, গ্রাচ্যুইটি বা পুজোর বকেয়া বোনাস না মেটালে সংশ্লিষ্ট বাগান মালিককে গ্রেপ্তার করা হবে এক মাসের মধ্যে। কিন্তু, এক মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সরকারের সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন আমরা দেখছি না।
বিজেপির শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের চেয়ারম্যান এমপি মনোজ টিগ্গা অবশ্য বলেন, বহু বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া পুজো বোনাসের জন্য সরাসরি দায়ী বিগত সরকার। ওরা একতরফাভাবে শ্রমিকদের বোনাস ২০ শতাংশ ঘোষণা করে দিয়ে জট তৈরি করেছিল। আমাদের সরকার বিষয়টি দেখছে।
হান্টাপাড়া বাগানের মালিক সুরজিৎ বক্সি অবশ্য বলেন, চা শ্রমিকদের গত বছরের বকেয়া পুজো বোনাসের অর্থ মিটিয়ে দিতে আমরা চেষ্টা করছি।