নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেনার দায়ে কসবার রাজডাঙা গোল্ড পার্কে আত্মঘাতী ‘ত্রয়ী’ সুইসাইড নোটের শেষ ইচ্ছেকে মর্যাদা দিয়ে কেওড়াতলা মহাশশ্মানেই তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। রাজডাঙার ওই আবাসনের ভাড়াটে আত্মঘাতী শরজিৎ ভট্টাচার্য, তাঁর স্ত্রী গার্গীদেবী ও একমাত্র পুত্র আয়ুস্মানের এই ইচ্ছেকে সম্মান দিতে কলকাতা পুলিস বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। বুধবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে গার্গীদেবীর আত্মীয়া টালিগঞ্জ থানার মনোহরপুকুর রোডের বাসিন্দা সুদেষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তিনজনের মরদেহ তুলে দেওয়া হয় বলে লালবাজার জানিয়েছে।
কলকাতা পুলিসের এক সূত্র জানাচ্ছে, ‘ময়না তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ফাঁস দেওয়ার জেরে মৃত্যু হয়েছে শরজিৎবাবু ও তাঁর স্ত্রী-পুত্রের। তিনজনের দেহে অন্য কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি। অর্থাৎ, কেউ কাউকে খুন করে আত্মঘাতী হননি। বরং সবাই একসাথে আত্মহত্যা করেছেন।’ ঠিক কী লেখা রয়েছে পাঁচ-ছ’লাইনের ওই সুইসাইড নোটে? লালবাজার জানাচ্ছে, ‘আমরা স্বেচ্ছায় নিজেদের ঈশ্বরের কাছে নিজেদের সমর্পণ করছি। আমাদের মৃত্যুর পর কোনও সহৃদয় ব্যক্তি একই জায়গায় একসাথে আমাদের শেষকৃত্য এবং পরলৌকিক কাজ করলে, আমাদের আত্মা শান্তি পাবে। ’
উল্লেখ্য, কসবার ৫০, রাজডাঙা গোল্ড পার্কে তিনতালার ভাড়ার ফ্ল্যাটে ফাঁস দিয়ে সপরিবারে আত্মঘাতী হন পেশায় জমি-বাড়ির দালালির কাজ করা শরজিৎবাবু। এলাকার বাসিন্দাদের সিংহভাগের বক্তব্য, ‘এলাকায় কেমন মেলামেশা করতেন না পরিবারটি। ফলে কেন এমন অঘটন তা পরিষ্কার নয়।’ তবে এই ত্রয়ী আত্মহত্যার তদন্তে নেমে কসবা থানার পুলিস জানতে পেরেছে, জমি-বাড়ির দালালির কাজ করা শরজিৎবাবুর আর্থিক অবস্থা ভেঙে পড়েছিল। দু’-তিন মাসের ফ্ল্যাট ভাড়া, ইলেকট্রিক বিল বকেয়া পড়েছিল। দেনার দায়ে দেওয়ালে কার্যত পিঠ ঠেকে গিয়েছিল পরিবারটির।