Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

পাক মদতেই লস্কর নেতার ভারত বিরোধী স্লোগান, পহেলগাঁওয়ের মূল চক্রীর সভা লাহোরে

সন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয়দাতা। জঙ্গিদের রক্ষাকর্তা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিকবার এমন অভিযোগ তুলেছে ভারত। হাতেনাতে প্রমাণও দিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে।

পাক মদতেই লস্কর নেতার ভারত বিরোধী স্লোগান, পহেলগাঁওয়ের মূল চক্রীর সভা লাহোরে
  • ৩০ মে, ২০২৫ ১৫:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সন্ত্রাসবাদের প্রশ্রয়দাতা। জঙ্গিদের রক্ষাকর্তা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিকবার এমন অভিযোগ তুলেছে ভারত। হাতেনাতে প্রমাণও দিয়েছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। তবু লজ্জা নেই ইসলামাবাদের। অপারেশন সিন্দুরে বিপর্যস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেও তারা ‘বুক ফুলিয়ে’ জঙ্গিদের আশ্রয় দিয়ে চলেছে। আর জঙ্গিদের যোগসাজশে আবার ভারতে হামলার পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। বুধবারই লাহোরে প্রকাশ্যে ভারত বিরোধী সভা করেছে পহেলগাঁও হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ লস্কর কমান্ডার সইফুল্লা কাসুরি খালিদ। শুধু তা-ই নয়, মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই কুখ্যাত জঙ্গির সদর্প ঘোষণা— ‘গোটা বিশ্ব এখন আমাকে চেনে।’ ভারত বিরোধী স্লোগানে তখন মুখরিত চারিদিক। অপারেশন সিন্দুরে খতম হাইপ্রোফাইল জঙ্গি মুদাসিরের নামে রাস্তা-হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণাও করেছে সে। দক্ষিণ লাহোরের কাসুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ছিল পাকিস্তান মারকাজি মুসলিম লিগ (পিএমএমএল)। এটি কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সইদের রাজনৈতিক দল। অনুষ্ঠানে ছিলেন একাধিক রাজনৈতিক নেতাও। 

Advertisement

আর বৃহস্পতিবার তো আরও একধাপ এগিয়ে লস্কর ঘোষণা করেছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার নেপথ্যে অন্যতম মস্তিষ্ক ও পরিকল্পনাকারী তারাই। আর এবার টার্গেট ভারত! পাকিস্তানের গুজরানওয়ালায় আয়োজিত এক সভায় এই দাবি করেছে কুখ্যাত এই জঙ্গি সংগঠনের পাঞ্জাব জোনাল কমান্ডার মুজাম্মিল হাজমি। হাজমি সাধারণ কোনও সন্ত্রাসবাদী নয়। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের তালিকাভুক্ত আন্তর্জাতিক জঙ্গি। অর্থাৎ দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সইদের মতো সেও ইন্টারপোলের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’। লস্করের এই সভায় পাকিস্তান সরকারের এক মন্ত্রীর হাজিরা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, আজকাল তাহলে পাকিস্তানের মন্ত্রীরা সরাসরি যোগ দিচ্ছে লস্করের সভায়?
গুজরানওয়ালার সমাবেশে হাজমির আক্রমণের লক্ষ্য ছিল ভারতই। সে বলেছে, ‘বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পিছনে আমাদের হাত সবথেকে বেশি। আমরাই ভারতের বন্ধু হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়েছি। ক্ষমতাচ্যুত করার প্ল্যান ও প্লট আমাদের। এবার দু’টি কাজ বাকি আছে। কাশ্মীরকে স্বাধীন করে পাকিস্তানে ঢুকিয়ে নেওয়া। আর পাঞ্জাবকে মুক্ত করে খালিস্তান গঠন করা।’ হাজমির আরও হুমকি, ‘আমরা ভারতের মিসাইলকেই ভয় পাই না। তাহলে বুলেটে ভয় পাব কেন?’ শুধু তা-ই নয়, করাচি থেকে লাহোর, এমনকী মুলতান ও পেশওয়ারে পর্যন্ত লস্কর কমান্ডারদের সঙ্গে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের পোস্টার শোভা পাচ্ছে হঠাৎ।
পাকিস্তানজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘ইয়ুম-ই-তকবির’। ১৯৯৮ সালের ২৮ মে বালুচিস্তানে পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছিল, তারই বর্ষপূর্তি। আর সেই উপলক্ষ্যেই শুধু লাহোর-গুজরানওয়ালা নয়, গোটা পাকিস্তানে সভা-সমাবেশ হয়েছে। সেখানেই হাফিজ সইদ, তালহা সইদ, মাসুদ আজহার সহ একঝাঁক লস্কর ও জয়েশ নেতাদের ছবির পাশে সেনাপ্রধানের ছবি দেখা গিয়েছে। সেগুলি সরানোর কোনও উদ্যোগ পাকিস্তান সরকার নেয়নি। 
লাহোরের সভায় হাজির হয়ে হাফিজ-পুত্র তালহাও উস্কানিমূলক ভাষণ দিয়েছে। অর্থাৎ, যতই যুদ্ধবিরতি হোক, পাকিস্তান সরকার, আইএসআ‌ই এবং জঙ্গিদের যোগসাজশ বন্ধ হবে না এটা স্পষ্ট। সেই বার্তা দিতেই হঠাৎ পাকিস্তানের পাঞ্জাব এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে প্রবলভাবে শুরু হয়েছে জেহাদি সমাবেশ। নিয়ম করে লস্কর ও জয়েশ জঙ্গিদের নিয়ে সভা বেড়ে গিয়েছে। বেড়েছে নতুন করে রিক্রুটও। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ