লেজার শো-জীবন্ত পাখি-বামা কালী, দক্ষিণ দমদমে থিমের চমক
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: লেজার শো থেকে জীবন্ত পাখিদের উড়ে বেড়ানো। বা বামাকালীর ভয়াবহ রূপ। এরকম নানা থিমে সাজছে দক্ষিণ দমদমের বিভিন্ন পুজো। পাশাপাশি চন্দননগরের আলোর চমকও থাকছে। অন্যদিকে রাজ্যে বিজেপি আসার পর একটি বিগ বাজেটের পুজো এবার হচ্ছে না। পাশাপাশি তৃণমূল কাউন্সিলারদের পুজো হিসাবে পরিচিত একাধিক পুজোর হাতবদল হয়েছে। আকারে ছোটো হয়েছে অনেকগুলি। একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় কোনো খামতি রাখেনি পুজো কমিটিগুলি।

Advertisement

দমদমের আর এন গুহ রোডের বড়ো কালীকে নিয়ে আবেগের শেষ নেই। এবার ১৯ ফুট লম্বা প্রতিমা দমদমের বড়ো চমক। জাগ্রত ঠাকুরের কাছে সারাবছর মানত করেন দমদম সহ আশপাশের বহু এলাকার মানুষ। মানত পূরণের আনন্দে পুজোর আগে দেবীকে সোনা ও রুপোর গয়না দেন ভক্তরা। এবারও বিপুল স্বর্ণালঙ্কারে সজ্জিত দেবী। এবারও জনপ্লাবন সামলানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে পুলিশ।  
জপুর সন্তান সংঘের পুজো এবার ৭৭ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম ‘প্রকৃতির কোলে জীবনের কলতান।’ মণ্ডপের বাইরে থাকছে লেজার শোয়ের চমক। ভিতরে ঢুকলে মনে হবে অরণ্যের দিনরাত্রি। বৃক্ষরাজির মধ্যে উড়ে বেড়াবে জীবন্ত ম্যাকাও, কাকাতুয়া, বদরি সহ নানা ধরনের পাখি। নদীর জলে ঘুরে বেড়াবে মাছ। ১৪ফুট উচ্চতার দেবী। তিনি আসছেন বামা কালীর আদলে। পুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা অনির্বাণ সমাজপতি বলেন, ‘ইট, কাঠ, পাথরের শহরে প্রকৃতি সচেতনার বার্তা দিতে আমরা এই থিম বেছে নিয়েছি। আশা করছি আমাদের থিম দর্শনার্থীদের মন জয় করে নেবে।’
শেঠ কলোনি অধিবাসীবৃন্দের পুজো এবার ৭৬ বছরে পা দিয়েছে। পুজোর থিম মহাকাল। মণ্ডপের বাইরে চার ফুটের শিবলিঙ্গ থাকবে। মণ্ডপ সাজছে প্রদীপ ও দেবীর ত্রিনয়ণ দিয়ে। এখানে বামাকালী রূপ বড়ো চমক। পুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা সায়ন আচার্য বলেন, ‘মায়ের রূপ দর্শনার্থীদের সামনে বড়ো চমক।’ মধুগড় অধিবাসীবৃন্দের শ্যামাপুজো এবার ৫৮ বছরে পা দিয়েছে। তাদের থিম ‘নিড় ছোটো ক্ষতি নেই’। চড়ুই, বাবুই সহ বিভিন্ন পাখির বাসা দিয়ে সাজছে মণ্ডপ। বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে প্যান্ডেল। কালী আসবেন সাবেকি রূপে। পুজো কমিটির মুখ্য উপদেষ্টা স্বরূপ দত্ত বলেন, ‘বহু পাখি এখন দেখা যায় না। বিলুপ্তপ্রায় পাখিদের কাল্পনিক ঘর, সেখানে তাদের বিচরণ ফুটিয়ে তোলা হবে থিমের মাধ্যমে।’
দক্ষিণ দমদমের ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির কালীপুজো নিয়ে মানুষের আগ্রহ ছিল। কারণ গত কয়েকবছর বিপুল বাজেটের পুজো হত। অভিনেতা-অভিনেত্রী ও শিল্পীদের ঢল নামত। থিমের মণ্ডপে উপচে পড়ত ভিড়। পুজোটি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার ও শহর তৃণমূলের সভাপতি রাজু সেনশর্মার পুজো নামে পরিচিত ছিল। এবার পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দমদম রোডের হনুমান মন্দির লাগোয়া জপুর জয়শ্রীর পুজো শহরের বড়ো চমক ছিল। কাউন্সিলার সঞ্জয় দাসের হাত ধরে থিমের মণ্ডপে ভিড় উপচে পড়ত। তিনি আত্মঘাতী হওয়ার পর পুজো আড়েবহরে অনেক কমে গিয়েছে। একইভাবে তৃণমূল কাউন্সিলারদের পরিচালিত প্রায় সব পুজোরই এখন হাতবদল হয়েছে। আকারে ছোটো হয়ে গিয়েছে পুজোগুলি।