নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মাদক পাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও থামছে না কাশির সিরাপ পাচার। পাচারকারীরা এবার পন্থা বদলেছে। আগের মতো আর সড়কপথ ব্যবহার করছে না তারা। পুলিসি নাকা চেকিং বেড়ে যাওয়ায় এখন মাঠঘাট পেরিয়ে, ঝুড়িতে বোতল চাপিয়ে তা মাথায় করে সীমান্তে পৌঁছে দিচ্ছে পাচারকারীরা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশে কাশির সিরাপের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে গিয়েছে। এক বোতল সিরাপের দাম এখন বাংলাদেশে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮০০-২০০০টাকা। এই মোটা লাভের আশায় সীমান্তবর্তী এলাকায় ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে পাচারকারীরা। উল্লেখ্য, শনিবার রাতে নদীয়া জেলার হোগলবেড়িয়া থানার নমোপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম দিরাগ মণ্ডল। সে হোগলবেড়িয়ার বরাজেরপাড়ার বাসিন্দা। তার কাছ থেকে মোট ৮০০বোতল কাশির সিরাপ উদ্ধার হয়েছে। সেগুলি চারটি বড় প্লাস্টিকের বস্তায় লুকিয়ে রাখা ছিল। পাশাপাশি একটি স্মার্টফোনও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। রবিবার ধৃতকে তেহট্ট মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ১৪দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার তাকে ফের আদালতে তোলা হবে এবং পুলিস হেফাজতের আবেদন জানানো হবে। প্রাথমিক জেরায় দিরাগ জানিয়েছে, এই পাচারচক্রে আরও দু’জন জড়িত রয়েছে। দু’জনই হোগলবেড়িয়ার বরাজেরপাড়ার বাসিন্দা। বর্তমানে তাদের খোঁজে জোর তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস। পুলিসের দাবি, মুর্শিদাবাদের ডোমকলের ওই দু’জনের কাছ থেকে সিরাপ সংগ্রহ করেছিল দিরাগ। পরে তা মাঠের রাস্তা ধরে পাচারের উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে সিরাপ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। উল্লেখ্য, নদীয়া জেলার করিমপুর এলাকা কাশির সিরাপ পাচারের করিডর হিসেবে পরিচিত। আগেও একাধিকবার এই রুট ধরে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সিরাপ উদ্ধার করেছে পুলিস। চাহিদা ও লাভের আকর্ষণে সীমান্ত এলাকায় ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে মাদক পাচার চক্র। প্রশাসনের কড়া নজরদারিতেও তারা কৌশল বদলে পাচারে নামছে। পুলিস জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মাদক পাচার রুখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে।



