নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়ে চোরাই বাইক পাচারের আন্তঃজেলা চক্রের হদিশ পেল বাঁকুড়া পুলিস। ওই চক্রের সঙ্গে জড়িত দুই দুষ্কৃতীকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম সুরজ আলি খান ও শাহবুল গায়েন। তাদের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা ও বাঁকুড়া সদর থানার পাঁচিরডাঙা এলাকায়।
বাঁকুড়ার অতিরিক্ত পুলিস সুপার (সদর) সিদ্ধার্থ দোর্জি বলেন, ছাতনা থানার ঝাঁটিপাহাড়ী এলাকার একটি বাইক চুরির অভিযোগের তদন্তে নেমে আমরা ওই চক্রের হদিশ পেয়েছি। ধৃতদের কাছ থেকে তিনটি চোরাই বাইক, ৬৮ হাজার টাকা, চারটি ‘মাস্টার কি’ বা নকল চাবি এবং বেশকিছু ভুয়ো নম্বর প্লেট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ চলছে। আরও কোনও এলাকা থেকে বাইক চুরি গিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও বাঁকুড়ায় ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়ে ট্রাক ভর্তি ধান, চাল গায়েব করার চক্রের কিনারা হয়েছিল। ঝাড়খণ্ড থেকে দু’টি ট্রাকে ধান বোঝাই করে পূর্ব বর্ধমানের সেহারাবাজারে নিয়ে যাওয়ার নাম করে মাঝপথে ওই কারবার চলত। দুর্গাপুর থেকে জাতীয় সড়ক ধরে সোজা বর্ধমান না গিয়ে ওই চক্রের পান্ডারা বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড়ের জঙ্গলের রাস্তায় পণ্য সমেত ট্রাক ঢুকিয়ে দিত। তারপর হোটেলে খেতে যাওয়ার নাম করে পণ্যের মালিককে নামিয়ে ট্রাক নিয়ে উধাও হয়ে যেত। কিছুটা যাওয়ার পর তারা ট্রাকের ভুয়ো নম্বর প্লেট খুলে আসল নম্বর প্লেট লাগিয়ে নিত। ফলে পুলিসও তাদের ধরতে হিমশিম খেত। তবে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে পুলিস ওই চক্রের কিনারা করেছিল। বাইক চুরি চক্রের সদস্যরাও একইভাবে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়ে চোরাই বাইকগুলি পাচার করত।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘মাস্টার কি’ বা চাবি ব্যবহার করে প্রথমে বাইকগুলিকে চুরি করা হতো। তারপর গোপন ডেরায় নিয়ে গিয়ে বাইকের আসল নম্বর প্লেট খুলে ফেলা হতো। নকল নম্বর প্লেট লাগিয়ে সেগুলিকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হতো। বাইকে থাকা অন্যান্য নিশানও ঘসে মেজে পরিষ্কার করে দেওয়া হতো। মালিক সামনে নিজের বাইক যেতে দেখেও যাতে চিনতে না পারে সেজন্যই তা করা হতো। এমনকী সিসি ক্যামেরায় যাতে আসল নম্বর প্লেটের ছবি না ধরা পড়ে, তারজন্যও ওই পন্থা অবলম্বন করা হতো। পরে চোরা বাজারে ওইসব বাইক বিক্রি করা হতো। দূরবর্তী কোনও জেলার গ্রামীণ এলাকায় কম দামে ওইসব বাইক বিক্রির ব্যবস্থা হতো। অনেক সময় বাইকের ইঞ্জিন সহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা আলাদা ভাবে বিক্রি করে দেওয়া হতো। তা অন্যান্য বাইকে প্রয়োজন অনুসারে লাগানো হতো। এভাবেই চক্রের সদস্যরা কাজ করত। ধৃতদের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত বলে পুলিস সন্দেহ করছে। সকলকে ধরতে না পারলে ফের কারবার শুরু হবে বলে পুলিস আধিকারিকরা আশঙ্কা করছেন।