রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: জেলা সদর আলিপুরদুয়ার থেকে ৬২ কিমি দূরে ১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা মাদারিহাটের লংকাপাড়া চা বাগান। বীরপাড়া থেকে দূরত্ব ১৮ কিমি। এক সময় তোলাবাজদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছিল। আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দুষ্কৃতীরা কথায় কথায় গুন্ডা ট্যাক্স আদায় ও ছিনতাই করত।
অথচ একেবারে ভুটান পাহাড়ের কিনারে লংকাপাড়া চা বাগানে প্রকৃতি তার যাবতীয় সৌন্দর্য উপুড় করে দিয়েছে। একদিকে ভুটান পাহাড়, তিতিখোলা নদীর ঢাল, অন্যদিকে চা বাগান ও জলদাপাড়ার তিতির জঙ্গল। চারদিকে সবুজের সমারোহ। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের দিশা দেখাতে ২০২৩ সালে জেলা পুলিশের তরফে এখানে লংকাপাড়া ইকোপার্ক তৈরি করে দেওয়া হয়। ওই পার্কে রয়েছে সেলফি পয়েন্ট ও শিশুদের দোলনা। পার্কটিতে মোমো, থুকপা সহ নানান স্বাদের পাহাড়ি খাবারের স্টলও তৈরি করে দেওয়া হয়। সপ্তাহ শেষের ভ্রমণে পর্যটকদের অফবিট ডেস্টিনেশন এই পার্ক। সুইমিংপুল ও পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য কটেজ তৈরির কাজও শুরু হয়েছিল এখানে।
কিন্তু ২০২৪ সালে এলাকার রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে মুখ থুবড়ে পড়ে পার্কটি। বন্ধ হয়ে যায় কটেজ ও সুইমিংপুল তৈরির কাজও। বিগত সরকারের আমলে এই পার্কের দেখভালের কমিটি ছিল তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দখলে। এবার পার্কটির কমিটি হাতবদল হয়ে বিজেপির লোকজনের দখলে। পার্কটির হারানো গরিমা ফেরাতে এবার উদ্যোগী হয়েছেন খোদ আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। ১৫ সেপ্টেম্বর পার্কটির দেখভালের জন্য মনোজ টিগ্গা নতুন কমিটি তৈরি দিয়েছেন। আর সেদিন থেকেই পর্যটকদের ভিড় শুরু হয়েছে পার্কটিতে। শহরের কোলাহল থেকে নদীখাত, চা বাগান ও জঙ্গল ঘেরা নির্জন পাহাড়ের ঢালে সময় কাটাতে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। ভুটান পাহাড়কে পাশে রেখে লংকাপাড়া ইকোপার্কের সেলফি জোনে ছবি তুলতে আসতে শুরু করেছে জেন জি’রা। ভাগ্য সহায় থাকলে তিতির জঙ্গলে হরিণ বাইসন হাতিও চোখে পড়বে।
এমপি মনোজ টিগ্গা বলেন, রাজ্যে সরকার বদল হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই লংকাপাড়া ইকোপার্কের কমিটিতেও বদল এসেছে। তৃণমূল জমানায় লংকাপাড়া ইকোপার্কে দেদার তছরূপ হয়েছে। এবার নতুন করে ইকোপার্কটির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হবে। নতুন পর্যটন মরশুম শুরু হয়েছে। পর্যটকরা এবার এখানে আসতে শুরু করেছেন।
• নিজস্ব চিত্র।