নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বসিরহাট: নদীবাঁধে ধস নেমে প্লাবিত হল গোসাবা ও হিঙ্গলগঞ্জের একাধিক গ্রাম। নোনা জল ঢুকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষের জমি। বুধবার সকালে গোসাবার আমতলী পঞ্চায়েতের পুঁইঞ্জলী গ্রামের হরিতলায় এই ঘটনা ঘটে। রায়মঙ্গল নদীর জল হুহু করে ঢুকে যায় গ্রামে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বাঁধ মেরামতির কাজে হাত দেয় সেচদপ্তর। সকালের দিকে জোয়ার ও কোটালের প্রভাবে জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই জল ঢোকে বলে অনুমান প্রশাসনের। বহু ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মাইকিং করে গ্রামবাসীদের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১০০ মিটার জুড়ে ধস নেমেছে। আপাতত রিং বাঁধ দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে। কিন্তু যেভাবে জল ঢুকেছে গ্রামে, তাতে ভালো মতো ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল বলেন, অন্তত তিন থেকে চারটি গ্রামে জল ঢুকেছে। ক্ষতির মুখে প্রায় চার হাজার বিঘে চাষের জমি। পাঁচশোর কাছাকাছি বাড়ি জলমগ্ন। কয়েকটি রাস্তায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোটালের প্রভাব কমলে জল নেমে যাবে। জল ঢুকতেই অনেকেই বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। ব্লক প্রশাসনের দাবি, গ্রাম থেকে জল নামছে। কোনও প্রাণহানি হয়নি।
এদিকে, বুধবার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের বাঁশতলি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বসে গেল প্রায় দু’শো ফুটের মতো বাঁধ। ধসে যাওয়া বাঁধের ছোটো ছোটো জায়গা দিয়ে নদীর নোনা জলও ঢুকতে শুরু করে চাষজমিতে। খবর যায় বিডিও অফিসে। দ্রুত বাঁধ মেরামতি শুরু হয়।
স্থানীয় কৃষক গোপাল মণ্ডল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গায় নদীবাঁধ সংস্কার করা হয়নি। বহুবার বিডিও অফিস এবং পঞ্চায়েতকে বলা হয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। আমরা চাই, দ্রুত কংক্রিটের বাঁধ করে দেওয়া হোক।
হিঙ্গলগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির ভূমি ও বনদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ সুরজিৎ বর্মন বলেন, সুন্দরবন এলাকার মানুষের সুরক্ষার জন্য আমরা বহুবার কেন্দ্রের কাছে অনুরোধ করেছি কংক্রিটের বাঁধের জন্য টাকা বরাদ্দ করতে। কিন্তু কেন্দ্র আমাদের কথায় কান দেয়নি। এছাড়া এখন যে বাঁধটি রয়েছে, সেটি সংস্কারের জন্যও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। বিজেপির বসিরহাট জেলার সম্পাদক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে বাঁধ মেরামতির জন্য একাধিকবার কেন্দ্রের তরফে টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু কাজ ঠিকমতো হয়নি।