সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: মায়াপুর-বামুনপুকুর-২ নম্বর পঞ্চায়েতের অধীনে রয়েছে নদীবেষ্টিত গ্রাম ইদ্রাকপুর। এক বছরেরও আগে সেচদপ্তর থেকে ব্রিজ ও অ্যাপ্রোচ রোডের মাধ্যমে ইদ্রাকপুরকে নবদ্বীপ শহরের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য তৈরি হয়েছে একটি ৪০মিটারের সেতু। সেতুর দু’দিকেই ৬০মিটার করে ১২০মিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোড রয়েছে। ওই ঢালাই রাস্তার পাশেই ধস নেমেছে। ইদ্রাকপুর গ্রামে মূল প্রবেশপথ হল এই অ্যাপ্রোচ রোড। এদিকে ভাগীরথীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় ছাড়িগঙ্গার জল বেড়েছে। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন ইদ্রাকপুর গ্রামের বাসিন্দারা।
ইদ্রাকপুর গ্রামে ঢোকার মূল রাস্তাই হল এই অ্যাপ্রোচ রোড। সেকারণে গ্রামবাসীদের দাবি ছিল, অ্যাপ্রোচ রোডের রাস্তাটি উঁচু করার। সেইসঙ্গে ছাড়িগঙ্গার জলস্রোত থেকে বাঁচতে দু’দিকে গার্ডওয়াল দেওয়ার দাবিও ছিল। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক হাজার বাসিন্দা ও পড়ুয়া চলাচল করেন। কিন্তু, জলস্তর বৃদ্ধির সঙ্গে জলের চাপে সেতুর দু’দিকের রাস্তায় বেশ কিছুটা অংশে মাটি ধসে গিয়েছে। কোথাও আবার রাস্তার দু’দিক বসে গিয়ে ভেঙে গিয়েছে। ইদ্রাকপুর গ্রামে প্রায় ১০হাজার মানুষ বাস করে। অধিকাংশ মানুষই কৃষিজীবী। নদীবেষ্টিত এই গ্রামে চলাচল করার কোনও রাস্তা ছিল না। পরবর্তীতে এই রাস্তাটিই নবদ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। বর্তমানে রাস্তার এই পরিস্থিতির কারণে বড় যানবাহনও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। ইদ্রাকপুরের লক্ষ্মী ঘোষপাড়ার বাসিন্দা দশরথ ঘোষ বলেন, আমি প্রতিদিন পূর্ব বর্ধমান জেলার বিদ্যানগর মোড়ে সব্জি নিয়ে যাই। এই রাস্তার অবস্থা খুব একটা ভালো নয়। দু’দিকের বেশকিছু অংশ বসে গিয়েছে। বড় গাড়ি যাতায়াত করলেই রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে। রাস্তার দু’পাশ ভেঙে যাচ্ছে। রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে গ্রামবাসীদের ভীষণ ক্ষতি হয়ে যাবে। এই রাস্তা ছাড়া নবদ্বীপের সঙ্গে যোগাযোগের বিকল্প কোনও পথ নেই। রাস্তার ক্ষতি হয়ে গেলে আগের মতো নৌকা করে যাতাযাত করতে হবে। ইদ্রাকপুর গ্রামের বাগেদের পাড়ার বাসিন্দা বাবু ঘোষ বলেন, বেশকিছু অংশ দিয়ে দু’টি গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারছে না। আমি প্রতিদিন দুধ বিক্রি করতে নবদ্বীপের বাজারে যাই। রাস্তার কিছু অংশ খুবই বাজেভাবে ধসে গিয়েছিল। কয়েকদিন আগে সেচদপ্তর ইটভাঙা ও কিছু বালির বস্তা ফেলে ঠিক করেছে। নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, একবছরের বেশি আগে এই সেতু তৈরি করেছিল সেচদপ্তর। সেতুর ঢালাই রাস্তার পাশ দিয়ে ধস নেমেছে। স্থায়ীভাবে গার্ডওয়াল দিতে হবে। গার্ডওয়াল না দিলে ওই রাস্তা থাকবে না। সেচদপ্তরকে বারবার বলা হচ্ছে। নদীর জল বেড়েই চলেছে। চাষিদের পাশাপাশি আমরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। ইদ্রাকপুর গ্রামে ঢোকার এই অ্যাপ্রোচ রোডের ঢালাই রাস্তায় ধস। -নিজস্ব চিত্র