Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফের ধস জাতীয় সড়কে, উত্তরের চার জেলার ১০ জায়গায় ভাঙন

ধস অব্যাহত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। বৃহস্পতিবার সকালে ফের কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন ওই মহাসড়কের সেলফিধারা ধসে বিপর্যস্ত হয়।

ফের ধস জাতীয় সড়কে, উত্তরের চার জেলার ১০ জায়গায় ভাঙন
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, ধূপগুড়ি: ধস অব্যাহত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। বৃহস্পতিবার সকালে ফের কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন ওই মহাসড়কের সেলফিধারা ধসে বিপর্যস্ত হয়। স্বাভাবিকভাবেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাস্তাটি চালু করা কার্যত অনিশ্চিত। এদিকে, বৃষ্টির দাপট থামতেই উত্তরবঙ্গে শুরু নদী ভাঙন। চার জেলার ১০টি জায়গায় থাবা বসিয়েছে বিভিন্ন নদী। যার মধ্যে ধূপগুড়িতে আংরাভাসা নদী বিধ্বংসী। ইতিমধ্যে কিছু গাছ গ্রাস করে নদী এশিয়ান হাইওয়ের দিকে এগতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, তিস্তা নদীর জলে প্লাবিত সাতটি গ্রাম থেকে এখনও জল নামেনি। ফের ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর হতে পারে বলে আশঙ্কা। এনিয়ে নদীর তীরবর্তী গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কিত। 

Advertisement

উত্তরকন্যার বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, পাহাড় ও সমতলের সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়েছে। প্রতিটি জেলার কিউআরটি’কে সতর্ক করা হয়েছে। নদীর পাড়ে দেশি নৌকা ও স্পিড বোট রাখা হয়েছে। 
ধসের জেরে তিনদিন ধরে যান চলাচল বন্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। আজ, শুক্রবার সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট সড়ক চালু করার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে ফের সেলফিধারায় পাহাড়ের উঁচু অংশ থেকে পাথর, মাটি, গাছ হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে। যার জেরে রাস্তার ওই অংশ অবরুদ্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়রা বলেন, শ্বেতীঝোরা, ২৭ মাইল, ২৯ মাইল প্রভৃতি জায়গায় জাতীয় সড়ক ধসে তিস্তা নদীর গর্ভে চাপা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির চেষ্টা করছে এনএইচআইডিসিএল। সেই কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অবস্থায় নতুন করে ধস নামায় রাস্তাটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চালু করা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। 
কালিম্পংয়ের পুলিস সুপার শ্রীহরি পান্ডে বলেন, রাস্তাটি বন্ধ রয়েছে। শিলিগুড়ি থেকে বিকল্প রুটে কালিম্পং ও সিকিমে যানবাহন চলাচল করছে। ৭১৭এ জাতীয় সড়কে ছোট যানবাহন চলছে। 
এদিকে, দু’দিন পর শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কমেছে। এদিন রোদও উঠেছিল। কিন্তু ধূপগুড়িতে আগ্রাসী হয়ে উঠেছে আংরাভাসা নদী। গয়েরকাটা চা বাগানের কাছে গতিপথ পরিবর্তন করেছে আঙরাভাসা। ইতিমধ্যে চা বাগানের বাস লাইনে একাধিক গাছ গ্রাস করে নদী ধূপগুড়ি-গয়েরকাটা এশিয়ান হাইওয়ে-৪৮ এর দিকে এগিয়ে এসেছে। এদিন সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন সেচদপ্তর ও এশিয়ান হাইওয়ের আধিকারিকরা।
এছাড়া রাজগঞ্জের বেতগাড়ায় শিঙিঝোরা নদী, তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের ভিতরকুঠি ও তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের আমতলায় গদাধর নদী, তুফানগঞ্জ-২ ব্লকের উত্তরঘোসোয় রায়ডাক-২ নদী, তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের উলেরখাওয়া ঘাটে রায়ডাক-১ নদী, ফাঁসিদেওয়ার রহামু গ্রামে মহানন্দা নদী, ক্ষুদ্র সেচ খালের বাঁধ, ফালাকাটায় গোবরানগরে ডুডুয়া নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্রান্তি ব্লকের চারটি, মালবাজারের একটি এবং হলদিবাড়ির দু’টি গ্রাম এখনও তিস্তার জলের তলায়। কালিম্পংয়ের তিস্তাবাজার সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নদীর জল নামলেও রাস্তায় রয়েছে কাদা।  আংরাভাসা নদী পরিদর্শনে প্রশাসনের আধিকারিকরা। - নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ