নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভূমিধসের আতঙ্ক ঘিরে ধরেছে হাওড়ার বেলগাছিয়া সংলগ্ন বস্তি এলাকার হাজার হাজার বাসিন্দাকে। ভূমিধসের জেরেই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে এলাকার রাস্তাঘাট থেকে নতুন তৈরি হওয়া নিকাশি নালা। বাড়িগুলির দেওয়ালে ক্রমেই চওড়া হচ্ছে ফাটল। প্রশাসনের তরফে বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁদের প্রশ্ন, ‘কোথায় যাব?’
ফলে ভূমিধসের আশঙ্কা নিয়েই বাস করছেন বাসিন্দারা। মাটির ফাটল থেকে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবেশবিদরা। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের তরফে বিশেষ পরিদর্শক দল পাঠানো হবে বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
প্রায় ১৭ একর এলাকা জুড়ে থাকা বেলগাছিয়া ভাগাড়ের পাশেই রয়েছে ঝিল রোড। রাস্তা সংলগ্ন বিশাল বস্তি এলাকায় দশ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা থাকেন। বৃহস্পতিবার বড় ভূমিধসের ঘটনার পরেই প্রশাসনের তরফে বারবার তাঁদের সরে যাওয়ার জন্য আবেদন করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যেভাবে প্রায় দেড় বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফাটল বাড়ছে, তাতে কুড়ি মিটার নীচে পর্যন্ত ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরসভা ও পুলিসের তরফে ইতিমধ্যেই আশেপাশে থাকা আঠাশটি পরিবারকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনও হাজার হাজার মানুষ রয়ে গিয়েছে বস্তিতে।
শনিবার সেখানে গিয়ে দেখা গেল, কয়েক মাস আগে তৈরি হওয়া কংক্রিটের রাস্তা ফেটে দু’টুকরো হয়ে একটি অংশ উঁচু হয়ে গিয়েছে। ফাটলের জন্য বসে গিয়েছে নিকাশি নালা। বস্তির ভিতরে বাড়ির দেওয়ালে ফাটল চওড়া হচ্ছে। উপড়ে গিয়েছে বৈদ্যুতিক তারের খুঁটিগুলি। বস্তি এলাকার বাসিন্দা সুরুলিয়া পাশওয়ান, গজধর পাশওয়ান, রাকেশ মালি, ইলা কুমারীরা বলেন, সন্ধ্যা নামলেই গোটা বস্তি অন্ধকারে ডুবে যায়। পুলিস বলছে অন্য জায়গায় চলে যেতে। কিন্তু কোথায় যাব আমরা? শহরজুড়ে আস্তাকুঁড়, ভ্যাট ঘেঁটে আবর্জনা কুড়নোই মূল কাজ এই ঝুপড়ির বাসিন্দাদের। ভবিষ্যতে কোথায় আশ্রয় নেবেন, জানা নেই তাঁদের।
হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী এ প্রসঙ্গে বলেন, ইতিমধ্যেই বিপজ্জনক এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাকিদেরও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। মাটির নীচে পরিস্থিতি কী অবস্থায় রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে রাজ্যের বিশেষজ্ঞদের দল আসবে। জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও আইআইইএসটি শিবপুরের বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল বেলগাছিয়া এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে।
পরিবেশ বিজ্ঞানী ডাঃ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী বলেন, যেভাবে ওই এলাকায় ভূমিতে ফাটলগুলো হয়েছে, তাতে সেখান থেকে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে। বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যে তা মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিষয়টি দ্রুত দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের নজরে আনা উচিত।