সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ভাগীরথী নদীর পাড়ে ধস নামার ফলে এলাকার মূল রাস্তার একাংশ বসে গিয়েছে। ধসের ফলে রাস্তাটি কয়েক ফুল বসে যাওয়ার ফলে ওই পথে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রানিনগর অঞ্চলের বেশ কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাশের একটি রাস্তা দিয়েই আপাতত মানুষ হেঁটে যাতায়াত করছেন। তবে যানবাহনগুলি দূর দিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সামনে ঈদ উৎসব থাকায় বেজায় সমস্যার সম্মুখীন এলাকাবাসী। খবর পেয়েই এলাকা পরিদর্শনে যান জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা সংসদ সদস্য খলিলুর রহমান। এছাড়াও এদিনের পরিদর্শনে ছিলেন রঘুনাথগঞ্জ ১ ব্লকের বিডিও সুবীর রায়, জেলা পরিষদের সদস্যা চেসমিনা পারভীন সহ সেচ দপ্তরের আধিকারিকগণ। রাস্তা যাতে শীঘ্রই চলাচলের উপযোগী করা যায় এবিষয়ে আধিকারিকদের কথা বলেন। খলিলুর রহমান বলেন, অধিবেশনে দিল্লিতে থাকার সময়ই রাস্তা ধসের খবর পাই। তারপরই এবিষয়ে জেলাশাসকদের সঙ্গে কথা বলি। রাস্তাটি এদিন পরিদর্শন করেছি। মানুষের যাতায়াতে সত্যি সমস্যা হচ্ছে। রাস্তাটি যাতে শীঘ্রই চলাচলের উপযোগী করা যায় এবিষয়ে আধিকারিকদের বলেছি।
জানা গিয়েছে, প্রায় দিন সাতেক আগেই রঘুনাথগঞ্জ ১ ব্লকের রানিনগর পঞ্চায়েতের বৈকুন্ঠপুর কাটানে ধস নামে। নদী পাড়ে কয়েক মিটার এলাকার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার একাংশ বসে গিয়েছে। প্রায় একশো মিটার রাস্তায় কোথাও এক থেকে পাঁচ ফুট বসে গিয়েছে। আরও বেশ কিছুটা রাস্তায় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। বৈকুন্ঠপুর, রানিনগর, নতুনগঞ্জ ও গাদি সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ রঘুনাথগঞ্জ শহরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন পরই মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ উৎসব রয়েছে। তার আগে ঈদের কেনাকাটা থেকে অফিস, আদালত ও চিকিৎসা পরিষেবা পেতে কয়েক হাজার মানুষকে এ পথেই শহরে আসতে হয়। আপাতত পাশের একটি গলি দিয়ে উভয় পাড়ের মানুষ যাতায়াত করলেও অ্যাম্বুলেন্স সহ বড় যানবাহনগুলোকে কয়েক কিমি দূর দিয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, রাস্তাটি প্রতিবছরই কেটে যায়। ক'দিন থেকে তো চলাচলই সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। মানুষের বাড়ি ও অলিগলির ভেতর দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ঈদ উৎসব সামিল হতে জেলা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা আসবে। ঈদের আগেই রাস্তাটা চলাচলের উপযোগী করলে ভালো হয়।
বিডিও বলেন, ঈদের আগেই রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেচ দপ্তরের সবুজ সঙ্কেত পেলেই আপাতত সাইকেল, বাইক ও অ্যাম্বুলেন্স চলাচলের উপযোগী করা হবে।