নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের কালিম্পং ও সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে থাবা তিস্তা নদীর। শনিবার তিস্তা সংলগ্ন রাস্তার ২৯ মাইলে প্রায় ২০ মিটার অংশে ধস হয়েছে। ফলে রাস্তাটি বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দার্জিলিংয়ের ঘুম এবং মিরিক রোডেও নেমেছে ধস। শিলিগুড়িতে গাছ পড়ে জখম হয়েছেন এক বৃদ্ধা। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেও কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির সাতটি গ্রাম এখনও জলমগ্ন। এখনও ফুঁসছে তিস্তা ও জলঢাকা নদী। মেখলিগঞ্জে তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় হলুদ এবং জলপাইগুড়িতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে মাথাভাঙা পর্যন্ত জলঢাকা নদীর অসংরক্ষিত এলাকায় লাল সঙ্কেত জারি রয়েছে।
টানা বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় যান চলাচল শুরু হয় ধস বিধ্বস্ত ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। শনিবার সকালে কালিম্পংয়ের ২৯ মাইলের কাছে আবার রাস্তা ধসে গিয়েছে। বিপজ্জনক এই এলাকায় পাহাড় কেটে রাস্তা চওড়া করার পরিকল্পনা নিয়েছে এনএইচআইডিসিএল। স্থানীয়দের বক্তব্য, রাস্তাটির একদিকে পাহাড়, আর একদিকে তিস্তা। জলস্তর কিছুটা কমায় রাস্তায় ছোবল বসিয়েছে তিস্তা। নদী ভাঙন তীব্র হলে রাস্তাটি ফের বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কালিম্পংয়ের পুলিস সুপার শ্রীহরি পাণ্ডে অবশ্য বলেন, জাতীয় সড়ক এখনও বন্ধ হয়নি। ২৯ মাইল এলাকা দিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
এদিন সকালে ধসে বিপর্যস্ত হয় দার্জিলিংয়ের ঘুম-সুখিয়াপোখরি রাস্তা। পাহাড়ের উঁচু উপত্যকা থেকে মাটি, পাথর, নুড়ি হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে রাস্তায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা চালিয়ে রাস্তা থেকে ধস সরিয়েছে জেলা প্রশাসন। দুপুরের পর রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়েছে। মিরিক রোডে রাস্তার উপর গাছ পড়ে। তাও সরিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, টানা দু’দিন পর এদিন শিলিগুড়িতে চলেছে রোদ ও বৃষ্টির খেলা। দুপুরে বেশ কিছুক্ষণ সূর্যের দেখা মেলে। দুপুরের পর থেকে আকাশ ছিল মেঘলা। এই অবস্থায় কলেজ পাড়ায় বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ আচমকা রাস্তার উপর পড়ে। এজন্য বেশ কিছুক্ষণ রাস্তা বন্ধ ছিল। এতে এক বৃদ্ধা জখম হন। তাঁকে শিলিগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় কাউন্সিলার মিলি সিনহা বলেন, ওই কৃষ্ণচূড়া গাছটি দীর্ঘদিনের পুরনো। এর আগে এখানে একটি মেহগনি গাছ পড়ে যায়। দু’টি ঘটনাই মেয়রকে জানানো হয়েছে। এলাকায় আরও বেশকিছু পুরনো গাছ রয়েছে। এখন মেয়র যা বলবেন তাই করা হবে।
অন্যদিকে, তিস্তার জলে ক্রান্তির মাস্টারপাড়া, কেরানিপাড়া, বাসুসুব্বা, পূর্ব সাঙ্গাপাড়া, মালবাজারের টোটগাঁও, হলদিবাড়ির বিবিগঞ্জ ও ঝড় সিঙ্গেশ্বর প্লাবিত হয়েছে। সেচদপ্তর ও প্রশাসন জানিয়েছে, আবহাওয়া ও নদীর গতিবিধির উপর নজর রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। প্লাবিত গ্রামগুলির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। ২৯ মাইলে ধস। - নিজস্ব চিত্র।