Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হাওড়া-দিল্লি রেললাইনের অদূরেই ইসিএলের কোলিয়ারিতে ধস, আতঙ্ক

চোখের পলকে প্রতিদিন পার হয়ে যায় বন্দে ভারত, রাজধানী, শতাব্দীর মতো ভারতীয় রেলের একাধিক প্রিমিয়াম ট্রেন। দিল্লি-হাওড়া রেল লাইন বলে কথা!

হাওড়া-দিল্লি রেললাইনের অদূরেই ইসিএলের কোলিয়ারিতে ধস, আতঙ্ক
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: চোখের পলকে প্রতিদিন পার হয়ে যায় বন্দে ভারত, রাজধানী, শতাব্দীর মতো ভারতীয় রেলের একাধিক প্রিমিয়াম ট্রেন। দিল্লি-হাওড়া রেল লাইন বলে কথা! দেশের বর্তমান ও একদা রাজধানীকে যুক্ত করা এই লাইফ লাইনেই লুকিয়ে বিপদ! শুক্রবার ভোরে রেললাইনের  দু’শো মিটারেরও কম দূরত্বে একটি বন্ধ কোলিয়ারিতে ব্যাপক ধস। কোলিয়ারিটি ইসিএল এরিয়ার মধ্যেই। তার কিছু দূরেই দূরপাল্লার দুরন্তগতির রেলপথ। ভাগ্যিস, ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি রেললাইনটি। আসে পড়েনি কোনও ট্রেনও। তবে, এরপর ধসের এলাকা বাড়লে লাইনে ট্রেন চলাচল ঝুঁকির হয়ে উঠবে বলে স্থানীয়দের আশঙ্কা।  

Advertisement

জানা গিয়েছে, বন্ধ ওই কোলিয়ারির একটি চানক (কোলিয়ারির মুখ) সম্পূর্ণ রূপে ধসে গিয়েছে। বিস্তীর্ণ এলাকার ভূ-স্তর ৮০ ফুটেরও বেশি গভীরে চলে গিয়েছে। পাশেই ঘন জনবসতি। আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরের জিনিসপত্রও বাইরে রেখে দিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা,  যে কোনও সময়ে আরও বেশি এলাকা মাটির তলায় চলে যাবে। তাতে রেললাইনটিও ব্যাপকভাবে  ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাসন্দিাদের এই আশঙ্কাকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ রেল। পূর্ব রেলের মূখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কিছু হয়নি। ইসিএলের জমিতে ধস নেমেছে। ট্রেন চলাচলে এর কোনও প্রভাব পড়েনি।’
রানিগঞ্জ থানার জেমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত কোলিয়ারিটি। চলবলপুরের বাদকুটি কোলিয়ারি থেকে ইসিএল একটা সময়ে বহু কয়লা উত্তোলন করলেও এখন তা বন্ধ। কোলিয়ারি সংলগ্ন জনবসতি থেকে গিয়েছে। ৫০টির বেশি পরিবার সেখানে থাকে। খনি মুখটিকে ইসিএল কর্তৃপক্ষ সিলও করে দিয়েছিল। সেই সিল করা এলাকা সহ বিস্তীর্ণ এলাকাই মাটির তলায় চলে গিয়েছে। বাসিন্দারে দাবি, এদিন ভোর পাঁচটা নাগাদ বিকট শব্দ শুনতে পান তাঁরা। মাটি কেঁপে ওঠে। বাইরে বেরিয়ে দেখা যায়, চানকটি সম্পূর্ণ ধসে গিয়েছে। রেললাইনের অদূরের এই ঘটনা নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করে রেলও। রেলের এক আধিকারিক বলেন, রেল লাই঩নের নিরাপত্তার জন্য আমরা নির্দিষ্ট জমি অধিগ্রহণ করে রাখি। বর্তমান যা আমরা ফেনসিং দিয়ে ঘিরেও দিচ্ছি। এই এলাকাটি তার বাইরে রয়েছে। তাই আমাদের কিছু করণীয় নেই। 
ঘটনার পর ইসিএলের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শন করেন। ধস বাড়ার সম্ভবনা রয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হয়। স্থানীয় পুলিসকে তাঁরা জানিয়েছে, নতুন করে ধস বাড়ার সম্ভবনা কম। যদিও ইসিএলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রানিগঞ্জের বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ইসিএলের যেখানেই কয়লা তুলুক তারপর সেই এলাকা বালি দিয়ে সম্পূর্ণ রূপে ভরাট করে দেওয়া কথা। সেই কাজ হয়ে থাকলে এই ধরনের ঘটনা ঘটত না। তাঁরা সঠিকভাবে বালি ভরাট করেনি। তাঁদের বিরুদ্ধে ইসিএলে কেন লিখিত অভিযোগ করছে না? তাহলে কী সরষের মধ্যেই ভূত রয়েছে?
এনিয়ে ইসিএলের শ্রীপুর-সাতগ্রাম এরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার রবিন থাওনওজাকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজেরও উত্তর দেননি। ইসিএলের ডিরেক্টর (টেকনিক্যাল) নীলাদ্রি রায়ের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।স্থানীয় বাসিন্দা খুশি বাউরি বলেন, ‘শিশুদের নিয়ে এখানে বসবাস করি। হঠাৎ করে এলাকা ধসে গেলে কী হবে! এই উদ্বেগ শুধু বাদকুটি কোলিয়ারি এলাকায় নয়। সমগ্র খনি অঞ্চল জুড়ে দেখা গিয়েছে।’ বৃহস্পতিবারই জামুড়িয়ায় নির্মীয়মাণ সরকারি বাড়ি ভেঙে পড়েছে। রানিগঞ্জে ফের ধস নামল। বৃষ্টি নামতেই একের পর এক এলাকা ধসে যাচ্ছে।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ