Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমিদাতাদের আন্দোলন, সাইলো গোডাউনে রাখা ১২০ কোটি টাকার গম নষ্টের আশঙ্কা

জমিদাতাদের আন্দোলনে একমাস ধরে এফসিআইয়ের সাইলো গোডাউনের গেট বন্ধ। ভিতরে ৪২ হাজার মেট্রিক টন গম মজুত করে রাখা হয়েছে।

জমিদাতাদের আন্দোলন, সাইলো গোডাউনে রাখা ১২০ কোটি টাকার গম নষ্টের আশঙ্কা
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বালুরঘাট: জমিদাতাদের আন্দোলনে একমাস ধরে এফসিআইয়ের সাইলো গোডাউনের গেট বন্ধ। ভিতরে ৪২ হাজার মেট্রিক টন গম মজুত করে রাখা হয়েছে। পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে সেই গমকে শোধন করা হয় এখানে। কিন্তু বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরে পরবর্তী কাজ না হওয়ায় নষ্টের মুখে ১২০ কোটি টাকার গম। গোডাউন সংস্থা ও জমিদাতাদের ঝামেলা মেটাতে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা প্রশাসন একাধিকবার বৈঠকে বসলেও কোনো সুরাহা হয়নি। উপরন্তু ১৬ দিন ধরে মালগাড়ি এসে রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় রেলের তরফে প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে গোডাউন কর্তৃপক্ষকে। ফলে কার্যত দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাদের। বাধ্য হয়ে তারা বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হয়েছে। অভিযোগ, জমিদাতাদের আন্দোলনে কাজ বন্ধ হয়ে রয়েছে। 

Advertisement

সংস্থাটি আইনি পদক্ষেপ নিলেও ঝুঁকতে নারাজ জমিদাতারা। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, হয় অফিসে চাকরি দেওয়া হোক, নাহলে জমি ফেরত দেওয়া হোক। বালুরঘাট থানার পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
কোম্পানির এক আধিকারিক বলেন, আন্দোলনের ফলে কেউ গোডাউনে ঢুকতে পারছে না। ফলে কোম্পানির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এফসিআইয়ের গম যাতে নষ্ট না হয়, সেজন্য আমরা পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। এসফিআইয়ের মালদহ রেঞ্জের ডিভিশনাল আধিকারিক কুলদীপ সিং বলেন, ওই গোডাউনটি একটি সংস্থা দেখভাল করে। তারা ওই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছে। 
আন্দোলনকারী এক জমিদাতা  মঙ্গল এক্কা বলেন, চুক্তিতে স্পষ্ট আছে, জমি নিলে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু সেই চাকরি আমাদের দেওয়া হয়নি। আমাদের শ্রমিকের কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই কাজ না করলে ভিনরাজ্যে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আমাদের বাড়ি এখানে। বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে গিয়ে আমরা কীভাবে থাকব? দাবিপূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়ার অধীনে বালুরঘাট রেল স্টেশনের কাছে তৈরি হয়েছে সাইলো গোডাউন। যা একটি সংস্থা দেখভাল করে। বছরখানেক ধরে ওই গোডাউনে সামগ্রী আনা শুরু হয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি ট্রেনে করে গম এসেছিল। সেদিন থেকেই ওই গম আটকে দেন জমিদাতারা। বেশ কিছুদিন ধরে গোডাউনের ভিতরে ট্রেন এবং লরি আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখান কৃষকরা। জমির মালিকদের পক্ষে দাঁড়ায় আদিবাসী জমি রক্ষা কমিটি। জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের মধ্যস্থতাতেও সমস্যা মেটেনি।
জানা গিয়েছে, ৩০ জন জমি দিয়েও গোডাউনে অফিসের কাজ পেয়েছেন মাত্র ছয় জন। বাকি ২৪ জনকে অফিসের কাজ দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে তাঁদের শ্রমিকের কাজ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতে রাজি হননি জমিদাতারা। ভিনরাজ্যে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও রাজি হননি তাঁরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ