নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ১৯৪৯ সালে গড়ে ওঠে অণ্ডালের জিএসএফপি স্কুল। ৭৫ বছর পূর্ণ করা সরকারি পোষিত সেই স্কুলের বিপুল জমির প্রতি নজর পড়েছে জমি মাফিয়াদের। রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুরের দান করা জমিতেই নাকি এই স্কুল গড়ে উঠেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে স্কুলের জমি দখল করা হচ্ছে। প্রতিবাদ করলেই মেলে প্রভাবশালীদের হুমকি। স্কুলের মাঠ যেন পার্কিং জোন। দাঁড়িয়ে থাকে বাস, অটো, টোটো। মাঠের একাংশজুড়ে আবার ট্রান্সফর্মার সহ বিদ্যুতের সরঞ্জাম রাখা। স্থানীয় এক প্রভাবশালী স্কুলের মাঠে গাড়ি ও জিনিস রাখার জন্য নাকি টাকা নেন। স্কুলের শিক্ষিকাদের অভিযোগ, সন্ধ্যা হলে স্কুল চলে যায় দুষ্কৃতীদের দখলে। প্রতিদিন সকালে স্কুল খুললেই দেখা যায় মদের বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে। শিক্ষিকাদের আরও অভিযোগ, মাফিয়ারা স্কুল তুলে দেওয়ার জন্য এই পড়ুয়াদের ভর্তি হতে দিচ্ছে না। এমনকী পড়ুয়াদের জোর করে অন্য স্কুলে নিয়ে চলে যাওয়া হচ্ছে।
স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শুল্কা বারিকদার (রায়) বলেন, স্কুলের প্রতি অত্যচারের মূল কারণ বিপুল জমি। একটা সময়ে স্কুলের অধীনে ৬১৯ নম্বর দাগে আড়াই বিঘা জমি ছিল। পরবর্তীকালে সেই জমির রেকর্ডে কারচুপি হয়। একটি দাগ নম্বরের জমিগুলি অনেকগুলি দাগ নম্বরে ভাগ করে দেওয়া হয়। কয়েকজন পৃথক দাগ নম্বরের জমিতে বাড়ি করে নেয়। এবার স্কুলের বিল্ডিংয়ের উপর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। অণ্ডালের বিডিও দেবাঞ্জন দত্ত বলেন, অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এসিপি (অণ্ডাল) পিন্টু সাহা বলেন, থানায় নির্দিষ্ট অভিযোগ হয়ে থাকলে পুলিস অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।
স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে স্কুলটি। কিন্তু স্কুল লাগোয়া মাঠে বাস দাঁড়িয়ে। টোটোগুলি ইচ্ছে মতো রাখা হচ্ছে। সেখানেই খুদে পড়ুয়ারা দৌড়াদৌড়ি করছে। অভিযোগ, গাড়ি রাখার জন্য একটি অসাধু চক্র টাকা নেয়। স্কুলের অনুমতি না নিয়েই স্কুল চত্বরে বিয়েবাড়ির আয়োজন হয়। স্কুলের শিক্ষিকা সুপর্ণা অধিকারী, পায়েল রক্ষিত বলেন, স্কুলের জমি রক্ষা করার জন্য আমাদের প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে। স্কুলের পড়ুয়া কমিয়ে দিয়ে যাতে শিক্ষিকাদের অন্যত্র স্থানান্তর করে দেওয়ার হয় সেই চেষ্টাও হচ্ছে। স্কুলটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো জমিই জবরদখল হয়ে যাবে। শিক্ষিকারা আরও জানান, তাঁদের মারধরেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বার বার বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি।
স্থানীয় বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, স্কুলের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যা চলছে। স্কুলের উচিত তাঁদের ফাঁকা জমিতে এলাকার মানুষকে সংস্কৃতি চর্চা, খেলাধুলো করতে দেওয়া। কিন্তু স্কুলের জমি ভাড়া খাটিয়ে যদি কেউ ব্যবসা করে, তা মেনে নেওয়া হবে না। স্কুলের জমি দখলের চেষ্টা হলে তা কড়া হাতে মোকাবিলা করা হবে।