নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মিলছে না সরকারি জমি। কোথাও জমি থাকলেও আছে নানা জট। তার জেরেই মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে আটকে রয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে আধুনিক করে তোলার কাজ। যার জেরে হুগলি জেলা সদর চুঁচুড়া লাগোয়া ওই পঞ্চায়েতে সিংহভাগ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পাকা ঘর থেকে আধুনিক পরিকাঠামো তৈরি করা যাচ্ছে না। অভিযোগ, বেশ কিছু অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র কার্যত জরাজীর্ণ বাড়িতে চলছে। রোদ, বৃষ্টির সমস্যা সয়েই কোনওমতে শিশুদের পড়াশোনা ও পুষ্টিকর খাবার বিলির কাজ চালাতে হচ্ছে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, আধুনিক পরিকাঠামো না থাকায় একদিকে যেমন নাগরিকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে, তেমনই কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের উপস্থিতি ধারাবাহিকভাবে কমছে।
এ নিয়ে মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, কিছু জায়গায় জমি পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ, নাগরিকদের আমরা অনেক পাট্টা দিয়েছি। সেসব দেওয়া হয়েছে খাস জমিতে। আবার, কোথাও কোথাও জমি নিয়ে নানা জটিলতা রয়েছে। ফলে, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির আধুনিক ভবন তৈরির কাজে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। আমরাও স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করছি। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, অনেক নাগরিক আবার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের বেহাল দশা দেখে জমি দান করতে চাইছেন। কিন্তু সরকারি আইনের জটিলতায় সেই দান নেওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশাসনিক কর্তা বলেন, সরকারি আইন অনুসারে যিনি জমি দেবেন, তাঁকেই রেজিস্ট্রেশনের খরচ দিতে হবে। ওই শর্তেই অনেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। ওই আইন সংশোধন হওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে বা ক্লাবঘরে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। এখনও অনেক ক্ষেত্রে সেই ব্যবস্থা চলছে। কিন্তু বর্তমানে সরকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য একাধিক ঘর ও আধুনিক সুবিধাযুক্ত পরিকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছে। সেই সুবিধা পেতে হলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব জমি থাকতে হবে, নয়তো সরকারি জমি নিতে হবে। এই দুই সুবিধা মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তত ২০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য জোটানো যাচ্ছে না। পঞ্চায়েতজুড়ে এখন ২৭টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চলছে। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকান্তপল্লি ও কৃষ্ণদাস কলোনিতে মোট পাঁচটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আছে। সেখানে একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্যও জমি মিলছে না। আইনি জটিলতার কারণে দু’জন জমিদাতার জমিও নেওয়া যাচ্ছে না। আবার হেদিয়াপোতা, মেটিয়াগড়ের মতো এলাকায় সরকারি জমি নেই। অভিযোগ, এই পঞ্চায়েতে স্বাস্থ্যদপ্তরের কিছু জমি খালি পড়ে রয়েছে। কিন্তু সরকারি লাল ফিতের ফাঁসে আটকে থাকা সেসব জমি ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
ফলে, পঞ্চায়েতজুড়ে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র আধুনিকীকরণের কাজ লাটে উঠেছে। জরাজীর্ণ বাড়িতেই চলছে শিশুদের শিক্ষা ও পুষ্টি জোগানোর কাজ। নিজস্ব চিত্র