Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জমি দখল ঘিরে সংঘর্ষ, কুলটিতে ইটবৃষ্টি জখম গর্ভবতী সহ পুলিসকর্মীরা

জমি দখল ঘিরে সংঘর্ষ, কুলটিতে ইটবৃষ্টি জখম গর্ভবতী সহ পুলিসকর্মীরা
  • ১৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ইসিএলের জমি দখলকে ঘিরে কুলটি থানার শীতলপুরে উত্তেজনা ছড়াল। রবিবার রাতে সেখানে দু’পক্ষের মধ্যে মুহুর্মুহু ‌‌ইটবৃষ্টিতে রাজ্য সড়ক রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। ইটের আঘাতে এক সাতমাসের গর্ভবতী জখম হয়ে আসানসোল জেলা হাসপাতালে ভর্তি। ঝামেলা থামাতে গিয়ে পুলিসকর্মীদের ইটের আঘাতে জখম হওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যদিও সেকথা পুলিস স্বীকার করেনি। ঘটনার জেরে সোমবার থমথমে এলাকায় পুলিস টহল দেয়। 

Advertisement

এঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও শুরু হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, এক বিজেপি নেতার নেতৃত্বে হামলা শুরু হয়। যদিও ওই নেতার দাবি, তিনি বাউরি সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলেন। তাঁরা প্রথমে হামলা চালাননি। ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, দু’পক্ষই থানায় অভিযোগ করেছে। আমরা মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছি। অভিযুক্তদের তাড়াতাড়ি গ্রেপ্তার করা হবে।
পুলিস জানিয়েছে, শীতলপুর মোড়ের ৩ নম্বর রেলগেটের কাছে ইসিএলের জমিতে বাউড়িপাড়ার কিছু লোকজন একটি দোকান করতে উদ্যোগী হয়েছিল। স্থানীয় পাসোয়ানপাড়ার লোকজন তাদের বাধা দেয়। এনিয়ে চাপা উত্তেজনা ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, রবিবার রাতে বিজেপির যুব মোর্চার নেতা রাম বাউরির নেতৃত্বে প্রথমে হামলা হয়। তারপর দু’পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ইটবৃষ্টি হয়েছে। যদিও অপরপক্ষের অভিযোগ, ওই এলাকায় সবাই ইসিএলের জমিই দখল করেছে। বাউরিপাড়ার লোকজন দোকান করতে গেলে বাধা দেওয়া হয়। পাসোয়ানদের তরফেই প্রথমে হামলা চালানো হয়।
রবিবার রাতে দু’পক্ষের মারপিট ঘিরে প্রচণ্ড উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, বাড়িতে ঢুকে হামলা করায় নিকি পাসোয়ান নামে এক সাতমাসের গর্ভবতী ইটের আঘাতে জখম হন। অপরপক্ষের চারজন জখম হয়ে আসানসোল হাসপাতালে চিকিৎসা করান।
শীতলপুরে সিআইএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। ইসিএলের সদর দপ্তর সাঁকতোড়িয়া থেকেও সেখানকার দূরত্ব বেশি নয়। তারপরও কী করে ইসিএলের জমি দখল হচ্ছে-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামুড়িয়াতেও ইসিএলের প্রচুর জমি দখল হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এবিষয়ে ইসিএলের জনসংযোগ আধিকারিক পিনাকী চট্টরাজ বলেন, জমি দখল হলে প্রয়োজনে ইসিএলের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আইনি পদক্ষেপ করে।
১০২নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার সৌরভ মাজি বলেন, বিজেপি নেতা রাম বাউরি, শিবু বাউরির নেতৃত্বে হামলা শুরু হয়। এখন ওরা বাউড়ি সমাজের নাম নিয়ে অন্য আবেগ তৈরির চেষ্টা করছে। বিজেপির যুব মোর্চার মণ্ডল সভাপতি রাম বাউরি বলেন, মিথ্যা অভিযোগ। আমাদের বাউরি সমাজের অফিস পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই বাউড়ি সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ