সংবাদদাতা, রামপুরহাট : অবৈধ পাথর খাদান উচ্ছেদ ও আদিবাসীদের জমি উদ্ধারে প্রশাসন আর সময় নষ্ট করবে না। একদম ব্লক পর্যায় বিএল এণ্ড আরও থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় ডিএম, ডিএলএণ্ডআরকে পর্যন্ত পুরো ভূমি দপ্তরকে একাজে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে। খুবই শীঘ্রই লিখিত নির্দেশিকা পাঠিয়ে বিষয়টিকে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তারাপীঠে পুজো দিতে এসে রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু এমনটাই জানান। তিনি বলেন, জেলাশাসক, জেলা ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিক ও ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব আধিকারিকদের এবিষয়ে বিশেষভাবে সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, যাতে আদিবাসীরা তাঁদের জমি অবিলম্বে ফেরত পান। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মন্ত্রীর নিজস্ব দপ্তর থেকে খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশিকা বা নোটিস পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।
বীরভূম জেলা জুড়ে আদিবাসীদের কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধ ভাবেই চলছে পাথর খাদান। আর সেখান থেকেই দিনের পর দিন পাথর তুলছেন মাফিয়ারা। কোথাও আবার আদিবাসীদের জমিতেই চলছে পাথর ভাঙার কল। আগে বীরভূম জেলার রামপুরহাট থানা এলাকার তারাচুয়া মৌজার বেশ কয়েক জন বাসিন্দা এমনই অভিযোগ তুলে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ, রামপুরহাট থানার তারাচুয়া মৌজায় বছরের পর বছর ধরে বলপূর্বক আদিবাসীদের কৃষিজমি নষ্ট করে অবৈধ ভাবে পাথর উত্তোলন করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন পাথর মাফিয়ারা। আরও অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়েই একাজ হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না।
নিয়মনানুযায়ী, কোনো জায়গায় পাথর উত্তোলন বা পাথর খাদান করতে হলে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্যের মাইনিং অ্যাক্ট মেনে এবং অনুমতি নিয়েই কাজ করতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা না মেনেই বেপরোয়াভাবে চলছে পাথর খাদান ও ক্র্যাশার। বীরভূমের জেলাশাসককে এক জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক নিয়োগ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন বিচারপতি। যদি রাজ্যের অনুমতি ছাড়াই চলে এসব পাথর খাদান, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন। যদিও জেলাপ্রশাসনের তরফে তেমন কোনো কঠোর পদক্ষেপ করা হয়নি। উলটে অবৈধ পাথর খাদানে ধসের জেরে একের পর এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনা বারবার সামনে এসেছে।
এদিন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু সাফ জানান, কোনো দুর্নীতি বা বেনিয়ম চলতে দেওয়া যাবে না। সমস্ত আদিবাসীদের জমি পুনরুদ্ধারে তিনি পদক্ষেপ করছেন। আদিবাসীরা যাতে দ্রুত জমি ফেরত পায় সেব্যাপারে সরকারি নির্দেশিকা তিনি জেলা প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। মন্ত্রী আরও বলেন, তৃণমূলের দুর্নীতির প্রতিবাদেই মানুষ দু’হাত ভরে আমাদের আশীর্বাদ করেছেন।
মন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর আদিবাসীদের অনেকেই আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার আদিবাসী পরিবারগুলি দ্রুত তাঁদের বেদখল হওয়া জমি ফিরে পাবেন এবং অবৈধ পাথর খাদানের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
পাশাপাশি এদিন মন্ত্রী বলেন, গন্ধবণিক সমাজের ৭ শতাংশ মানুষ রয়েছেন। আগামি দিনে তাঁদের ওসিবি সম্প্রদায়ভুক্ত করার চিন্তভাবনা রয়েছে সরকারের। এদিন তারাপীঠ মন্দিরে মন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা, এলাকার বিজেপি নেতা নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।