Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভূমিদপ্তরে টাকা ফেললেই খাস জমিও ব্যক্তি মালিকানার দখলে

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ‘সেটিং’ করতে পারলেই খাসজমিও ব্যক্তিগত মালিকানায় রেকর্ড করা কোনও ব্যাপারই নয়

ভূমিদপ্তরে টাকা ফেললেই খাস জমিও ব্যক্তি মালিকানার দখলে
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ভাতার: ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে ‘সেটিং’ করতে পারলেই খাসজমিও ব্যক্তিগত মালিকানায় রেকর্ড করা কোনও ব্যাপারই নয়। ভাতারে ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা সেই তথ্য সেই বিষয়টি ফের সামনে নিয়ে এল। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সুশান্ত দত্ত নামে ওই ব্যবসায়ী রেকর্ড এবং দলিল দেখেই পুকুরটি কিনেছিলেন। পরে আধিকারিকরা তদন্তে নেমে জানতে পারেন, পুকুরটি এক সময়ে ব্যক্তি মালিকানায় থাকলেও পরে সেটি খাস ঘোষণা করা হয়। সেটি আবার এক ব্যক্তি নিজের নামে রেকর্ড করেন। পরে সেটি তিনি বিক্রি করে দেন। তবে খাসজমি কোন জাদুবলে ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হয়ে গেল তা নিয়ে রহস্য রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, এর পিছনে রয়েছে টাকার খেলা। মোটা অঙ্কের টাকা ঢাললে রেকর্ড পরিবর্তন হওয়া কোনও বিষয় নয়। বাম আমল থেকে শুরু হওয়া সেই প্রবণতা এখনও চলছে।  ভূমি এবং ভূমি সংস্কারের দপ্তরের ‘জাদু’ অনেকেই দেখেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ কেউ ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাজ নিয়ে গেলে তাঁকে দিনের পর দিন ঘুরতে হয়। ফাইল নড়তে বছর গড়িয়ে যায়। কিন্তু ‘জাদুদণ্ড’ নিয়ে গেলে সেই কাজ দ্রুত হয়ে যায়। সেই ক্ষমতা বলে জমির রেকর্ডও বদলে যায়। জমির আসল মালিকদের নাজেহাল হতে হয়। অনেকে আবার ‘ভুয়ো’ রেকর্ড করা জমি কিনে সমস্যায় পড়েন। ভাতারের ওই ব্যবসায়ী তেমনই এক পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। তাঁর এক আত্মীয় বলেন, ওই ব্যবসায়ী লুকিয়ে পুকুর কেনেননি। এলাকার সকলেই জানতেন। কিন্তু এক প্রভাবশালীর সঙ্গে মতবিরোধ হওয়ার খেসারত তাঁকে দিতে হয়েছে। পুকুর কেনার কয়েক বছর পর থেকে ওই প্রভাবশালী নিজের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তাঁকে নানা ভাবে হেনস্তা করতে থাকেন। পুকুরটি যখন বিক্রি করা হয় তখনই ওই প্রভাবশালী বাধা দিতে পারতেন। কিন্তু তখন তিনি তা করেননি। কারণ সেই সময়ে আত্মঘাতী ওই ব্যবসায়ী আরেক প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ছিলেন। তিনি ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার পরই তাঁকে আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। ওই ব্যবসায়ী পুকুরে মাছ চাষ করার পরও তা ধরতে পারেননি। পুকুর পরিষ্কার করতেও তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। এক আধিকারিক বলেন, পুকুরটি পুরনো রেকর্ডে খাস বলেই উল্লেখ রয়েছে। খাসজমি রাতারাতি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হতে পারে না। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রতারণা করে সেটি বিক্রি করা হয়েছিল। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কেউ যুক্ত না থাকলে এভাবে কোনও জমির রেকর্ড হতে পারে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক দিন আগে জেলাশাসক বিএলএলআরও-দের সঙ্গে বৈঠক করে স্বচ্ছ ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন। ভাতার সহ আরও দু’টি ব্লকের আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়। জেলাশাসক বলেন, কেউ অনিয়ম করলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ