সংবাদদাতা, পতিরাম: ফের বালুরঘাটের আত্রেয়ীর নদীর পাগলিগঞ্জে বাঁধ কেটে ট্রাক্টর নামার রাস্তা বানিয়ে ফেলল বালি মাফিয়ারা। নদীর ব্রিজ থেকে নামতেই বোল্ডার সরিয়ে মাটি ফেলে এই রাস্তা বানাচ্ছিল বালি মাফিয়ারা। খবর পেয়েই অভিযানে নামলেন বালুরঘাটের বিএলআরও। পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। আর্থমুভার দিয়ে এদিন বিকেলে ফের সেই রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে খবর, বালুরঘাটের বোয়ালদার পঞ্চায়েতের খাসপুরের দিকে নদীবাঁধের একাধিক জায়গায় রাস্তা তৈরি হচ্ছিল।
এদিকে বালুরঘাটের বোল্লা গ্রামপঞ্চায়েতের হরিহরপুরে নদীর উপর কৃত্রিম বাঁধ দেওয়ায় চাষিরা জল পাচ্ছেন না। এনিয়ে বুধবার বালুরঘাটে জেলা প্রশাসনিক ভবনের সামনে কৃষকরা বিক্ষোভ দেখান। প্রশাসন সূত্রে খবর, ওই এলাকাতেও অভিযান চালিয়ে বাঁধ ভেঙে ফেলা হবে। গরম পড়তেই বালি মাফিয়ারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক জায়গায় জল শুকিয়ে যাওয়ায় কৃত্রিম রাস্তা তৈরি করছে মাফিয়ারা। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে তাঁদের হুমকি দিচ্ছে মাফিয়ারা।
বালুরঘাটের বিএলআরও রণেন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, পাগলিগঞ্জে ব্রিজের কাছেই বাঁধ কেটে রাস্তা হচ্ছিল। আমরা খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি। হরিহরপুরেও নদীর উপরে বাঁধ দেওয়া হয়েছে। সেখানেও আমরা অভিযান চালাব।
স্থানীয় সূত্রে খবর,বালুরঘাটে আত্রেয়ী নদীর পূর্বপারে পাগলিগঞ্জ, পশ্চিমপাড়ে খাসপুর। ওই জায়গাগুলি বালি পাচারের অন্যতম জায়গা। দিনের আলোতেই অবৈধভাবে ট্রাক্টর নামিয়ে বালি তোলা হয়। সেই এলাকাগুলিতে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে একাধিক ট্রাক্টর আটক করলেও দুর্গম এলাকাগুলিতে যাওয়া সম্ভব হয় না প্রশাসনের আধিকারিকদের। সম্প্রতি বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের আধিকারিকদের হুমকি ও মারধর করারও অভিযোগ উঠছে বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এদিকে হরিহরপুরে বালি মাফিয়াদের কারণেই সেচের জল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ থেকে খাসপুর সংযোগকারী রাস্তার দুই পাড় থেকে বালি তোলা হয়। ফলে বর্ষায় ওই রাস্তা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।