নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের গুমা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকে খুনের দায়ে আসামি গৌতম দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল বারাসত আদালত। বৃহস্পতিবার এই রায়ের সঙ্গে অস্ত্র আইনে আরও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৫ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অনাদায়ে আরও ছ’মাস জেল। স্বামীর সাজা যাতে কম হয়, সেকারণে তাকে এদিন এজলাসে তোলার আগে কপালে তিলক পরিয়ে দেন স্ত্রী। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। রায় ঘোষণার পর কিছুটা হলেও হাঁফ ছেড়েছেন অশোকনগরের গুমার মানুষ।
অশোকনগরের গুমা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন তৃণমূল নেতা বিজন দাস। তিনি আগে ওই পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন। সেই সময়ে স্বচ্ছতার জন্য এই পঞ্চায়েত রাষ্ট্রপতি পুরস্কার পেয়েছিল। তাঁর সঙ্গে জমির কারবারি গৌতম দাসের বিরোধ ছিল। গৌতম একই পাড়ায় থাকত। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে পড়শি তুহিন দত্তের বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার সময় বিজন দাসকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে গৌতম। পালানোর সময় আগ্নেয়াস্ত্রটি ওই বাড়ির পাশেই কাঠের গুঁড়োর স্তূপে ফেলে দেয়। পুলিস জানিয়েছে, খুনের পর অভিযুক্ত গৌতম কালো জ্যাকেট পরে পালিয়েছিল। একাধিক স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও খুলনায় গৌতমের কয়েকজন আত্মীয় থাকেন। সেখানে সে আশ্রয় নিয়েছে। সোর্স ও নির্দিষ্ট তথ্যের উপর ভিত্তি করে শেষ পর্যন্ত ঘটনার ২৫ দিন পর বসিরহাটের ঘোজাডাঙা সীমান্ত থেকে পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৪ সালের ২২ মে গৌতমের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিস। এরমধ্যেই ২৫ নভেম্বর অভিযুক্ত জামিন পেয়ে যায়। বাইরে এসে নিহত উপপ্রধানের মেয়ে কোয়েনাকে সাক্ষ্য না দেওয়ার জন্য সে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ। ওই তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফের গৌতমকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। মামলার টেকনিক্যাল ও ফরেন্সিক তথ্য সহ ২৪ জনের সাক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে গৌতমকে মঙ্গলবার দোষী সাব্যস্ত করেন বারাসত আদালতের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা জজ কোর্টের বিচারক প্রজ্ঞা গার্গী ভট্টাচার্য হোসেন। এদিন তিনি সাজা ঘোষণা করেন। এ প্রসঙ্গে বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, উপপ্রধানের বিরুদ্ধে আক্রোশ ছিল গৌতমের। তাই পরিকল্পনা করেই খুন করেছে তাঁকে। মামলার সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুলিসি তদন্ত ও সাক্ষীদের বয়ানের উপর ভিত্তি করে বিচারক মাত্র দেড় বছরের মধ্যে আসামিকে সাজা দিয়ে মামলার নিষ্পত্তি করেছেন। নিহতের মেয়ে বলেন, আমরা গৌতমের ফাঁসি চেয়েছিলাম। তবে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশেও আমরা খুশি।