নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: একসময়ের ‘হেরোইন হাব’ মুর্শিদাবাদের লালগোলায় বাড়িতেই কেজি কেজি নিষিদ্ধ মাদক তৈরি করা হতো। মাদক কারবারের জেরে ফুলেফেঁপে উঠতে থাকে দুষ্কৃতীরা। পুলিশের লাগাতার অভিযান এবং কারবারিদের গ্রেফতারের পর হেরোইনের কারবারের ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যায়। তবে, কাঁচা টাকার লোভে গাঢাকা দেওয়া দুষ্কৃতীরা হেরোইনের পাচার শুরু করে। ইদানীং হেরোইন কারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। প্রায়ই হেরোইন সহ দুষ্কৃতীরা গ্রেফতার হচ্ছে। নতুন করে লালগোলার ‘হেরোইন হাব’ সক্রিয় হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
মাদক কারবারে গ্রেফতার হওয়ার পর অনেক অভিযুক্ত জামিন পেয়েছে। অনেকেই সাজা শেষ করে গ্রামে ফিরেছে। তাদের কেউ কেউ টাকার লোভে পুজোর আগে ফের কারবার শুরু করছে। শুক্রবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ কালমেঘা গ্রাম পঞ্চায়েতের দক্ষিণ লতিবেরপাড়ায় এক মাদক কারবারির বাড়ি হানা দেয়। পুলিশ সেখান থেকে প্রায় ৩৫০গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই দুষ্কৃতীকে। ধৃতের নাম মেবতাহাজুল ওরফে মেটা।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(লালবাগ) রাসপ্রীত সিং বলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মেবতাহাজুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমরা তার কাছ থেকে ৩৪১গ্রাম মাদক উদ্ধার করেছি। ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে।
গত বুধবার রাতে লালগোলা থানার সাহাবাদ এলাকার একটি আমবাগান সংলগ্ন রাস্তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করে। মহম্মদ কাইফ ও ইমতিয়াজ রহমান ৩১৩গ্রাম হেরোইনের প্যাকেট বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিল। তার আগেই হেরোইন সহ তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ দেখে দু’জন ছুটে পালানোর চেষ্টা করে। বেশ খানিকটা পথ ধাওয়া করে তাদের পাকড়াও করা হয়। তাদের একজনের কাছ থেকে হেরোইন উদ্ধার করা হয়। বাংলাদেশের কারবারিকে হেরোইন পৌঁছে দিতে স্থানীয় এক মাদক কারবারি তাদের মোটা টাকার টোপ দিয়েছিল বলে প্রাথমিক জেরায় পুলিশ জানতে পেরেছে।
তবে শুধু যে রাতের অন্ধকারে হেরোইন পাচার হচ্ছে, তা নয়। কারবারিরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা দিনে-দুপুরেও মাদক নিয়ে সীমান্তের দিকে ছুটছে। কিন্তু এত মাদক আসছে কোথা থেকে? স্বভাবতই এনিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে লালগোলা থানার বাহাদুরপুর জোলাপাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় নাকা তল্লাশি চালানোর সময় পুলিশ হেরোইন সহ তিন কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃত আলিবুর রহমান, মহম্মদ তুফান আলি এবং তালবর শেখের কাছ থেকে ২৮৩গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত হয়।
ভগবানগোলা এসডিপিও বিমান হালদার বলেন, তিনজনই দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত। রঘুনাথগঞ্জের কারবারি তালবর শেখ তারানগরের দুই কারবারিকে হেরোইন হাত বদলের জন্য এসেছিল। তিনজনে একটি বাইকে চেপে তারানগরের দিকে যাচ্ছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তিনজনকে আটক করে তল্লাশি চালানোর সময় ২৮৩গ্রাম হেরোইন বাজেয়াপ্ত করা হয়।