নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৫ সালের ৩৬৫ দিনে অনলাইন অপরাধের কবলে পড়ে ২০৮ কোটি টাকা খুইয়েছে কলকাতার বাসিন্দারা। অর্থাৎ গড়ে দৈনিক ৬০ লক্ষেরও বেশি টাকা প্রতারকরা হাপিস করেছে শহরবাসীর পকেট থেকে। খোয়া যাওয়া টাকার মাত্র ১৮ শতাংশ উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। সাইবার প্রতারণার এই ভয় ধরানো ছবি উঠে এসেছে সাইবার পরিসংখ্যানে।
কলকাতার সাইবার ক্রাইম বিভাগের যুক্তি, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অভিযোগ জানাতে দেরি করেন প্রতারিতরা। ফলে তদন্তে বিলম্ব হয়। এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় দ্রুত অভিযোগ জানানোর জন্য শহরে নয়া ‘প্রহরী’ মোতায়েন করল লালবাজার। মঙ্গলবার চালু হল নতুন টোল ফ্রি হেল্পলাইন— ‘১৮০০-৩৪৫-০০৬৬’। এর নাম, ‘ডিজিটাল প্রহরী’। মানুষের অভিযোগ নিতে ২৪ ঘণ্টাই এই নম্বর কার্যকর থাকবে। এদিন থেকেই চালু হয়েছে লালবাজারের সাইবার বিভাগের এই বিশেষ নম্বর। এই নম্বরে সহজেই অভিযোগ জানাতে পারবে শহরবাসী। মঙ্গলবার লালবাজারের সাইবার থানা থেকে ‘ডিজিটাল প্রহরী’র উদ্বোধন করেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার।শহরবাসী, বিশেষত প্রবীণ নাগরিকদের সচেতন করতে ও সাইবার জালিয়াতি রুখতে আরও দু’টি উদ্যোগ নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এদিন সেগুলির সূচনা হয়। সচেতনতা প্রচারে লালবাজার থেকে একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশ হবে। শহরের উল্লেখযোগ্য সাইবার অপরাধের ধরনের উল্লেখ থাকবে তাতে। বর্তমানে অপরাধের ট্রেন্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা হবে ‘সাইবার-পাস’-এ। বাংলা ভাষায় চালু হয়েছে পত্রিকাটি। পরে ইংরেজিতেও বেরবে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ার পেজেও আপলোড হবে সচেতনতামূলক বার্তা।
কলকাতার ডেপুটি কমিশনার (সাইবার) অভিষেক মোদি বলেন, ‘এখন থেকে সাইবার বিভাগের আরও একটি শাখা চালু হচ্ছে— ব্লকিং সেল।’ সাইবার আধিকারিকরা জানান, যে সমস্ত মোবাইল, সিম, হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, ইউআরএল, ই-মেইল অ্যাকাউন্ট মারফত সাইবার জালিয়াতি হচ্ছে, অভিযোগ পেয়ে তা ‘ব্লক’ করবে নয়া সেল। অভিষেক মোদি বলেন, ‘এদিন রাত পর্যন্ত ৬০টি সাইবার অভিযোগ সংক্রান্ত ফোন এসেছে ডিজিটাল প্রহরীতে।’উল্লেখ্য, সাইবার অপরাধের অভিযোগ জানাতে দেশজুড়ে চালু আছে হেল্পলাইন নম্বর— ‘১৯৩০’। লালবাজার আলাদাভাবে হেল্পলাইন চালু করেছে কারণ, ১৯৩০ নম্বরে ফোন করার পর কিছু পরিষেবা মানুষ পায় না। সেগুলি লালবাজার দেবে।