Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহিলা পুলিসকর্মীদের জন্য এবার বিশেষ ‘বডি প্রোটেক্টর’, উদ্যোগ লালবাজারের

মহেশতলা থেকে বাঁশদ্রোণী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে গিয়ে একাধিকবার আক্রান্ত হন মহিলা পুলিসকর্মীরা।

মহিলা পুলিসকর্মীদের জন্য এবার বিশেষ  ‘বডি প্রোটেক্টর’, উদ্যোগ লালবাজারের
  • ২৮ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মহেশতলা থেকে বাঁশদ্রোণী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ডিউটিতে গিয়ে একাধিকবার আক্রান্ত হন মহিলা পুলিসকর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নির্ধারিত ডিউটি ছাড়া মহিলাকর্মীরা রক্ষাকবচও পান না। মাথায় হেলমেট থাকলেও উড়ে আসা ইট-পাটকেলের আঘাতে জখম হন। এবার পরিস্থিতির বদল আসতে চলেছে। ডিউটি চলাকালীন মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পরিকল্পনা করেছে পুলিসের সদর দপ্তর লালবাজার। কর্তব্যরত মহিলাকর্মীদের জন্য এবার ‘বডি প্রোটেক্টর’ বা রক্ষাকবচ কিনছে লালবাজার। প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ হবে। এ জন্য ইতিমধ্যেই দরপত্র ডাকার কাজ হয়েছে। 

Advertisement

মহেশতলায় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ডায়মন্ড হারবার পুলিস জেলার উর্দিধারীদের সহায়তায় গিয়েছিল কলকাতা পুলিসের বন্দর ডিভিশনের রিজার্ভ ফোর্স। দলে ছিলেন বহু মহিলা কনস্টেবল। গোষ্ঠী সংঘর্ষের মধ্যে উর্দিধারীদের দিকে উড়ে আসে একের পর এক ইট, স্টোন চিপ। লালবাজার সূত্রে খবর, সেই ঘটনায় কলকাতা পুলিসের তিন মহিলা কনস্টেবল আহত হন। একজনের হাতের কনুইয়ে ইট লাগে। দ্বিতীয় জনের লাগে পেটে। তৃতীয় মহিলা কনস্টেবলের হাঁটুতে লাগে স্টোন চিপ। তিনজনকেই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এরপর শনিবার বাঁশদ্রোণীতে একটি ধর্ষণকাণ্ডের পুনর্নির্মাণে গিয়েও উত্তপ্ত জনতার ইট বৃষ্টির মধ্যে পড়েন মহিলা পুলিসকর্মীরা।
লালবাজার সূত্রে খবর, পরপর এ ধরনের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন কলকাতার পুলিস কমিশনার মনোজকুমার ভার্মা। তিনি অফিসারদের জিজ্ঞাসা করেন, থানা ও ডিভিশনের রিজার্ভ ফোর্সের মহিলাকর্মীদের নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা রয়েছে? তখন অভ্যন্তরীণ এক রিপোর্টে দেখা যায়, কোনওরকম রক্ষাকবচ ছাড়া শুধুমাত্র হেলমেট মাথায় ডিউটি করেন মহিলারা। এরপর লালবাজারের প্রধান সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন, আইনশৃঙ্খলার ডিউটিতে গেলে মহিলা পুলিসকর্মীদের শরীর সুরক্ষার বেষ্টনীতে মুড়ে ফেলতে হবে। এরপর তড়িঘড়ি বডি প্রোটেক্টর কেনার উদ্যোগ নেয় লালবাজার। 
কি বৈশিষ্ট্য এই রক্ষাকবচের? লালবাজার জানিয়েছে, এটি আদতে একটি জ্যাকেট। অগ্নি নিরোধক। একই সঙ্গে জ্যাকেটের গলা, কাঁধ, কনুই ও কব্জি ফোম দিয়ে তৈরি প্যাড বসানো। কাঁধ, কনুই ও কব্জিতে হাড় থাকায় তা সুরক্ষিত রাখতেই এই প্যাডিংয়ের ব্যবস্থা। অন্যদিকে হাঁটু থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত ক্রিকেট খেলার প্যাডের মতো একটি রক্ষাকবচ দেওয়া হবে মহিলাদের। এর পাশাপাশি শহরের রাস্তায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে মহিলাকর্মীদের চিহ্নিত করতে ‘উওম্যান’ লেখা এমব্লেম থাকবে রক্ষাকবচে। লালবাজারের এক আধিকারিক বলেন, প্রাথমিকভাবে এক হাজার ‘বডি প্রোটেক্টর’ কেনা হচ্ছে। এই জ্যাকেট ‘ন্যাশনাল টেস্টিং হাউস’ 
দ্বারা স্বীকৃত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ