ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: একটা দিন তরিবৎ করে না খেলেও চলবে। কিন্তু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যিনি দিচ্ছেন, তাঁর সভা ‘মিস’ করা যাবে না। তাই কেউ বাড়িতে ভাতেভাত রেঁধে চলে এসেছেন, আবার কেউ দোকান থেকে দুপুরের খাবার কিনে আনতে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন স্বামীদের। তারপর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পোস্টার হাতে তৃণমূল সুপ্রিমোর সভাস্থলে চলে এসেছেন তাঁকে ধন্যবাদ জানাতে। বুধবার বড়ঞা ব্লকের ডাকবাংলা গ্রামে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভা কার্যত লক্ষ্মীরাই ভরিয়ে তুললেন। যা দেখে তৃণমূল নেত্রীকেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে দু’-চার কথা বলতেই হয়েছে।
এদিন ডাকবাংলা কিষাণ মান্ডি সংলগ্ন এলাকায় দুপুরের দিকে মমতার সভা ছিল। সেখানে দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার, বহরমপুর সাংসদ ইউসুফ পাঠান সহ কান্দি মহকুমার চার বিধানসভার প্রার্থীরাও ছিলেন। আর ছিলেন হাজার হাজার ‘গৃহলক্ষ্মী’। যেমন, সাটিতাড়া গ্রামের কুসুম বিবি। তিনি বেলা ১২টার আগেই সভায় চলে এসেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পোস্টার হাতে। বললেন, তৃণমল নেত্রীকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য সকাল ১১টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়িয়ে আমাদের মন জয় করে নিয়েছেন উনি। এর জন্যই এদিন তৃণমূল নেত্রীর পক্ষে গলা ফাটিয়ে চেঁচাতে এসেছি। এদিকে কুরুননুরুন গ্রাম থেকেও একঝাঁক লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা সভায় এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অনিতা ভল্লা বললেন, আমার বাড়িতে তিন বউমা ছাড়া আমিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাই। তাই এদিন শাশুড়ি বউমারা সবাই নেত্রীর সভায় এসেছি। আমাদের সবার আলাদা পরিবার রয়েছে। কিন্তু আজকের দিনে সবার জন্য এক হেঁশেলে সাত সকালেই আলু সেদ্ধ, ডাল ও ভাত রেঁধে এসেছি। ওরা বেড়ে খেয়ে নেবে। একঘড়িয়া গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, তৃণমূল নেত্রীকে দেখার জন্য সকাল ১০টার সময়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসি। বলে এসেছি আজ বাড়িতে রান্না বন্ধ। দুপুরে দোকান থেকে বিরিয়ানি কিনে খেতে বলে এসেছি স্বামীকে।
এদিন এভাবেই তৃণমূল নেত্রীর সভায় হাজার হাজার মহিলা ভিড় জমিয়েছিলেন। সভাস্থল ভরে যাওয়ার পর মহিলাদের প্যান্ডেলের বাইরে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছিল। যা দেখে দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার মাইক হাতে বলেন, সিকিউরিটি জোনের মধ্যে যে ফাঁকা জায়গা দু’টি রয়েছে, সেখানেও মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আপনারা এখানে চলে আসুন। কিছুক্ষণের মধ্যে ওই দুই জায়গাও মহিলারা ভরিয়ে তোলেন। যাঁদের অনেকের হাতে ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পোস্টার।
মহিলাদের এই স্বতস্ফূর্ততা দেখে তৃণমূল নেত্রী বললেন, আপনারা যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন, তাঁরা জেনে রাখুন অতি বেদনাদায়ক একটি ঘটনা থেকে আপনাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সূচনা করেছি। নোট বন্দির সময় কেন্দ্র সরকার চেয়েছিল আপনাদের জমানো পুঁজিও হরফ করতে। নোট বন্দির সময় মহিলাদের কাছে বাজার করার মতো টাকাও ছিল না। যাঁর কাছে যা ছিল, সব ব্যাঙ্কে ভরে দিতে হয়েছিল। তখনই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। প্রথমে আপনারা পেতেন ৫০০ ও ৭০০ টাকা। এখন যেটা ১৫০০ ও ১৭০০ টাকা হয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মা ও বোনেদের উপহার। তবে ভাতা বাড়িয়ে ঠিক কাজ করেছি কি না বলুন। ফের ক্ষমতায় আসছি, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হবে না।