সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: এক উৎসব শেষ হতে না হতেই আর এক উৎসবে এখন মাতোয়ারা হাওড়ার লক্ষ্মী গ্রাম আমতা ২ নম্বর ব্লকের খালনা। নিত্যনতুন মণ্ডপ থেকে শুরু করে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা, তার সঙ্গে রয়েছে অভিনব প্রতিমা। এককথায় ধনদেবীর আরাধনায় এখন মত্ত খালনা গ্রাম। রাস্তার উপর একের পর এক বিজ্ঞাপনের তোরণ, রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন খাবার ও রকমারি জিনিসের দোকান। সোমবার সকাল থেকেই আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার উপস্থিতিতে জমজমাট খালনা গ্রাম। তবে এই আনন্দের মাঝে কিছুটা হলেও পুজো উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আনন্দে বাধ সেধেছে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। কারণ গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে বেশ কয়েকটি মণ্ডপের সামনে জল-কাদা জমে রয়েছে। যা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে উদ্যোক্তাদের। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য পুজো কমিটির পক্ষ থেকে কাদা মাঠে বালি ও কাঠের গুঁড়ো ছড়ানো হয়েছে।
এদিন সকালে খালনায় আনন্দময়ী তরুণ সংঘের পুজো মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেল, মণ্ডপের সামনে ও পাশের অংশ জল-কাদায় পরিপূর্ণ। উদ্যোক্তারা তাঁদের সাধ্যমতো বালি, ইট ফেলে রাস্তা তৈরি করছেন। খালনা কোহিনুর ক্লাব ও মিতালি সংঘের মণ্ডপের সামনেও এক অবস্থা। কাদার হাত থেকে বাঁচতে উদ্যোক্তারা মাঠে কাঠের পাটাতন ও বালি ফেলছেন। কোথাও ইট পেতে রাস্তা তৈরি করছেন। একই হাল আমরা সকল পুজো মণ্ডপের সামনে। এইসব পুজো কমিটির বক্তব্য, এবার বৃষ্টি সব মাটি করে দিয়েছে। মণ্ডপের কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে গিয়েছে। তার উপরে মণ্ডপের সামনে জল-কাদা হওয়ায় বালি, কাঠের গুঁড়ো ফেলতে হয়েছে। দিনে সব ঠিক থাকলেও রাতে ভিড় বাড়লে এই ব্যবস্থা কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তাঁরা।
এদিন খালনার একাধিক বারোয়ারি লক্ষ্মীপুজোর উদ্বোধন করেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। এদিন তাঁর সঙ্গে ছিলেন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। সন্ধ্যার পর থেকেই পুজো মণ্ডপগুলিতে দর্শনার্থীদের ঢল নামে। উৎসবকে সামনে রেখে খালনায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এলাকায় যান চলাচলও নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ।